লন্ডন: ১৯৭৬ সাল। দক্ষিণ লন্ডনের এক বাসে সওয়ারি ডিকি বার্ড। কন্ডাক্টরের মাথায় সাদা টুপি দেখে বেশ চেনা মনে হল তাঁর। কোথায় যেন দেখেছেন! কৌতূহল মেটাতে তাঁকেই প্রশ্ন করে বসলেন। জবাব এল, ‘আম্পায়ার ডিকি বার্ডের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। এই টুপি তাঁরই। গতবার বিশ্বকাপ ফাইনালের পর বার্ডের মাথা থেকে খুলে নিয়েছি। দারুণ সংগ্রহ তাই না?’ আসলে এক বছর আগেই প্রথমবারের জন্য ওডিআই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে অজিদের পরাস্ত করে খেতাব জেতে ক্যারিবিয়ানরা। ম্যাচ শেষ হতেই দর্শকরা দৌড়ে পড়েছিলেন মাঠে। বার্ডের টুপি সংগ্রহে রাখতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন অনুরাগী, থুড়ি বাস কন্ডাক্টর। আম্পায়ার ডিকি বার্ডকে নিয়ে এমনই নানা মিথ প্রচলিত। মঙ্গলবার, ৯২ বছর বয়সে জীবনের ওপারে পাড়ি দিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্রিকেট মহলে।
কয়েক দশক আগে বিনা প্রযুক্তিতেই নির্ভুল সিদ্ধান্ত জানাতেন বার্ড। অন্যদের চেয়ে এখানেই এগিয়ে তিনি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিশতেন বন্ধুর মতো। প্রয়োজনে কড়া হতেও দ্বিধা করেননি। ইয়র্কশায়ার কাউন্টিতে জেফ্রি বয়কটের সতীর্থ ছিলেন তিনি। চোটের কারণে খেলা ছাড়তে বাধ্য হন। বেছে নেন আম্পায়ারিং। ১৯৭৩ সালে লিডসে টেস্টে অভিষেক ঘটে বার্ডের। দীর্ঘ কেরিয়ারের ইতি লর্ডসে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবসর ১৯৯৬ সালে। ভারত বনাম ইংল্যান্ড টেস্টে শেষবার আম্পায়ার হিসাবে মাঠে নামেন বার্ড। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে গার্ড অব অনার জানায় দুই দল। সেদিন আবেগে নাকি কেঁদে ফেলেছিলেন বার্ড। দ্রুত চোখ মুছে নেন। এর ঠিক কয়েক মিনিট করেই মাইক আর্থারটনকে এলবিডব্লু আউটও দেন তিনি। আম্পায়ার হিসাবে ৬৬ টি টেস্ট ও ৬৯ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন কিংবদন্তি বার্ড। তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের দুর্দান্ত নজিরও তাঁর দখলে।



