নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বেআইনি বালির কারবার বন্ধে বাঁকুড়ায় বৈধ খাদান চালুর সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই এব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ফলে সরকারের তরফে লিজ দেওয়া ঘাট থেকে বালি উত্তোলনে আর কোনও বাধা রইল না। আজ, মঙ্গলবার থেকে জেলার বালি খাদানগুলি চালু হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে বাঁকুড়ায় বর্তমানে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। জেলার জন্য ধাপে ধাপে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছে। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রচুর বালি প্রয়োজন। বৈধ খাদান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিকরা চিন্তায় পড়েছিলেন। বেআইনি বালিপাচার বৃদ্ধি পাওয়ারও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই আশঙ্কার কথা ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপরই তড়িঘড়ি করে বৈধ বালি খাদান চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার ফলে নদনদীর জলস্তর কমে যায়। বালি তোলা নিয়ে আমরা সেচদপ্তরের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাই। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকদের (বিএলএলআরও) কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। তারপর বালি খাদান চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশিকা জারি হওয়ায় খাদান মালিকরা বালি উত্তোলন করে বিক্রি করতে পারবেন। তাতে আর কোনও বাধা রইল না।
জেলা প্রশাসন ও ভূমিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাঁকুড়ার দামোদর, দ্বারকেশ্বর সহ অন্যান্য নদনদীতে ৪২টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। বর্ষা শুরুর পর খাদানগুলি থেকে বালি উত্তোলন প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই ওই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে মাফিয়ারা জেলার বিভিন্ন নদনদী থেকে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন করে থাকে। বালি মজুত (স্যান্ড রিজার্ভ) থাকা সত্ত্বেও ওইসব খাদান অজ্ঞাত কারণে নিলামে তোলা হয় না। সেখান থেকে দেদার বালি পাচার করা হয়। খাতড়া মহকুমায় কোনও বৈধ ঘাট না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন নদনদী থেকে বেআইনি বালি পাচারের ঘটনা ঘটছে।
ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বেআইনি বালি পাচার বন্ধে আমরা কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছি। গত মরশুমে পুলিশ ও আমাদের দপ্তর একাধিক বেআইনি বালি ভর্তি ট্রাক্টর, ট্রাক বাজেয়াপ্ত করেছিল। মোটা অঙ্কের জরিমানাও আদায় করা হয়। তালডাংরা সহ খাতড়া মহকুমার কিছু জায়গায় বেআইনি বালি উত্তোলনের খবর পেয়েছি। দ্রুত ওইসব জায়গায় অভিযান চালানো হবে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি বরদাস্ত করা যাবে না। বালি মাফিয়াদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হবে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ভূমিদপ্তর অভিযানে সহায়তা চাইলে তা দেওয়া হবে।