সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: দিনভর দফায় দফায় পথ অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল নিশিগঞ্জে। এদিন প্রথমে নিশিগঞ্জ মধূসূদন হোড় মহাবিদ্যালয় চালুর দাবিতে পথ অবরোধে শামিল হয় পড়ুয়ারা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাথাভাঙা-কোচবিহার রাজ্যসড়ক অবরোধ করেন পড়ুয়ারা। পুলিস আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর সেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর পর শুরু হয় ডিওয়াইএফআই ও এসএফআই-র পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ। দিনভর মাথাভাঙা-কোচবিহার রাজ্যসড়কে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে ছিল। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচলতি মানুষকে। বিকেলে পুলিস আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়।
যদিও পুলিসের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছে বাম ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, দু’জন মহিলা সহ ১০ জন জখম হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন নিশিগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি। ডিওয়াইএফআইয়ের দাবি, বাম আমলে নিশিগঞ্জ কলেজকে সেলফ ফিনান্স কলেজ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সরকার পোষিত কলেজ হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার। তৃণমূল সরকার আসার পর হাজার আবেদনেও কলেজটি সরকারি অনুমোদন পায়নি। সম্প্রতি কলেজটি বন্ধ হয়েছে। এনিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের।
এ ব্যাপারে ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা সম্পাদক ইউসুফ আলি বলেন, নিশিগঞ্জ মধূসূদন হোড় মহাবিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। এনিয়ে কোনও হেলদোল নেই সরকারের। আমরা এদিন পথে নামতেই লাঠি চালাল পুলিস। আমাদের দু’জন মহিলা কর্মী সহ ১০ জন জখম হয়েছেন।
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, মহাবিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে বিষয়টি রাজ্যে জানানো হয়েছে। এদিন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পথ অবরোধ করা হয়েছিল। ভোগান্তি হয়েছে সাধারণ মানুষের।
মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিস সুপার সন্দীপ গড়াই বলেন, এদিন অবরোধে শামিল হওয়া ডিওয়াইএফআই ও এসএফআই কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাঠিচার্জের অভিযোগ ঠিক নয়। নিজস্ব চিত্র।