নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড় কলেজের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ছাত্রী। মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হলে, তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়। পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় বাকিদের বিরুদ্ধে অবৈধ জমায়েত সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। আদালত চত্বরে এদিন এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকদের মধ্যে বচসা বাধে। এমনকি, সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। উত্তেজনা ছিল ভাঙড়েও। পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামে আইএসএফের ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফ্রন্ট এবং এসএফআই। বড়ো ধরনের অশান্তি এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল চলে এলাকায়। সকালে ভাঙড় কলেজের এবিভিপি নেতা সায়ন মণ্ডল আদালতের উদ্দেশে যাওয়ার সময় বাগজোলা খালপাড়ের রাস্তায় তাঁকে আটকে মারধরের অভিযোগ ওঠে আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
বিকাল তিনটে নাগাদ ঘটকপুকুর থেকে নলমুড়ি পর্যন্ত বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে প্রতিবাদ মিছিল করে বাম ও আইএসএফের ছাত্র সংগঠন। তারা ডিসি অফিসে স্মারকলিপি জমা দেয়। দুই ছাত্র সংগঠনের দাবি, কলেজে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ডেপুটেশন চলাকালীন বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্কুল ছুটির সময়ে বহু পড়ুয়া ও সাধারণ যাত্রী রাস্তায় আটকে পড়েন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
এদিকে, এদিন আদালত চত্বরেও দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এবিভিপি এবং এসএফআই সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলে। উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটা সময় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায় পরিস্থিতি। ধৃতদের জামিন হতেই আদালতের বাইরে আইনজীবীদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের বচসার অভিযোগও ওঠে। সায়নবাবু বলেন, পুলিশ মিথ্যে মামলায় এদের তুলে এনেছিল। আমরা সবার জামিন করিয়ে দিয়েছি। ডিম ছোড়া প্রসঙ্গে রাজ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই বাম আইনজীবী। তবে যেভাবে এবিভিপি এবং এসএফআই কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা লেগেছিল তাতে বড়ো বিপত্তি ঘটে যেতে পারত। দুই পক্ষকে সরাতে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা করতে দীর্ঘক্ষণ ভাঙড় থানায় বৈঠক করেন কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (লিগাল) ভাস্কর মুখোপাধ্যায়।