বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: গোরুর দুধে সোনা পাওয়া যায়। এমনই দাবি করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিজেপি এমপি প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের দাবি ছিল, ‘গোমূত্র করোনায় ফুসফুসের ক্ষতি আটকায়! আমি পান করেছি বলেই করোনা হয়নি।’ বিজেপি নেতাদের গোমূত্র এবং গোজাত দ্রব্য নিয়ে এমন নানা মন্তব্য ভাইরাল হয়েছে। ‘চিরশত্রু’ সিপিএম সমর্থকরা এইসব দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসাহাসি করেন। গোমূত্রের গুণাগুণ সম্পর্কে আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তামিলনাড়ু সিপিএম তো তাঁকে বরখাস্তেরই দাবি তুলেছিল। সেই সিপিএম সরকারই কেরলে গোমূত্র সহ বিভিন্ন ধরনের গোপণ্য দিয়ে তৈরি ওষুধ বেচছে ঢাকঢোল পিটিয়ে। বছর বছর আয়ও করছে লক্ষ লক্ষ টাকা। তথ্য জানার অধিকারে পাওয়া এহেন উত্তরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।
২৩ মে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) কেরল সরকারের আয়ুষ দপ্তরের কাছে প্রশ্নমালা পাঠান পশ্চিম মেদিনীপুরের এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তাতে মূল প্রশ্ন ছিল, কেরল সরকার এবং সেখানকার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা গত পাঁচ বছরে কতটা ‘পঞ্চগব্য ঘৃত’ তৈরি করেছে এবং কত টাকার ব্যবসা করেছে। প্রসঙ্গত, খিঁচুনি, স্মৃতিলোপ সহ একাধিক স্নায়ুরোগের সমস্যায় ব্যবহার হওয়া এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান গোমূত্র। এছাড়াও এতে থাকে গোবর, দুগ্ধ, গোরুর দুধের দই এবং ঘি।
২৮ জুন কেরল সরকার উত্তর পাঠায়। চোখ ছানাবড়া করার মতো সেই উত্তর কেরলের বাম সরকারই জানিয়েছে, তাদের আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সরকারি সংস্থা ‘ঔষধি’ (দি ফার্মাসিউটিক্যাল কর্পোরেশন আইএম কেরল লিমিটেড) এই পঞ্চগব্য ঘৃত তৈরি করে। শুধু তাই নয়, এই আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির যে অন্যতম উপাদান গোমূত্র—তারা নিজেরাই সেকথা জানিয়েছে।
কেরল সরকার জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা ‘ঔষধি’ ছাড়াও ৯৩৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাও গোমূত্র এবং গোজাত দ্রব্য থেকে তৈরি এই ওষুধটি কেরলে বানায়। কিন্তু এইসব বেসরকারি ইউনিটগুলি কত ওষুধ বানায় এবং কত টাকার ব্যবসা করে—সেই তথ্য জানায়নি তারা। অবশ্য সরকারি সংস্থার ‘ঔষধি’ পঞ্চগব্য ঘৃত সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানিয়েছে তারা। জানিয়েছে, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ সাল—এই ৫ বছরে ‘ঔষধি’ সবশুদ্ধ ২৩২৭.৫৫ লিটার গোমূত্র সমৃদ্ধ পঞ্চগব্য ঘৃত তৈরি করেছে। আর তা বিক্রি করে আয় করেছে প্রায় সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকা। যদিও অনুমান, কেরল সরকারের লাইসেন্স প্রাইভেট আয়ুর্বেদিক ওষুধ নির্মাতাদের বিক্রিবাটার হিসেব ধরলে এই পরিসংখ্যান বেড়ে হতে পারে কয়েকশো কোটি! কেরল সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য ভি পি সানু বলেন, আমাদের সরকার গোমূত্র বেচে না। হ্যাঁ, তবে পঞ্চগব্য ঘৃত ওষুধের অন্যতম উপাদান গোমূত্র। সেকথা স্বীকার করেছেন তিনি।