নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রবিবার সকালে মহারাজপুর কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে দৌলতাবাদ। নির্বাচন শুরু হতেই তৃণমূল বনাম বাম-কংগ্রেস জোটের সংঘর্ষ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র দৌলতাবাদ নিশিথবরণী সিনহা হাইস্কুল দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়। ভেঙে দেওয়া হয় নির্বাচনের ক্যাম্প অফিস। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিসকে লাঠিচার্জ করতে হয়। গোলমালের আঁচ পেয়ে আগে থেকেই বিশাল পুলিসবাহিনী এলাকায় ছিল। তৎক্ষণাৎ পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দশজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিস। তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনীর তাণ্ডব সত্ত্বেও ভোটে জেতে বাম-কংগ্রেস জোট। কংগ্রেস ২৪, সিপিএম ১৫ এবং তৃণমূল চারটি আসনে জিতেছে। মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, বিশাল পুলিস বাহিনী আগে থেকেই মোতায়েন ছিল। ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই ঘটনায় দশজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিপিএম ও কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন মারধর করে জোটের প্রার্থী ও ভোটারদের এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করে। এমনকী জোটের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করে। মহারাজপুর কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির মোট আসন সংখ্যা ৪৩। গত নির্বাচনে সিপিএম ৪৩টি আসনে জিতেছিল। এ বছর ওই ৪৩টি আসনের মধ্যে সিপিএম ২১টি আসনে এবং কংগ্রেস ২২টি আসনে প্রার্থী দেয়। শুরুর দিকে ভোট শান্তিপূর্ণই ছিল। অভিযোগ, হঠাৎই তৃণমূল আশ্রিত বহিরাগত গুন্ডারা লাঠি ও ইট পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যাতে কেউ আসতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ করে। অভিযোগ, সিপিএম-কংগ্রেস জোটের লোকজনকে বেপরোয়া ভাবে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পুলিস শেষমেশ লাঠিচার্জ করে। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে।
কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক তথা নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেন, পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতী তাণ্ডব চলেছে। জোটের ক্যাম্পে আক্রমণ চালানো হয়েছে। বাইরে থেকে এসে তৃণমূলের গুন্ডারা আক্রমণ চালিয়েছে। অপর এক বাম কর্মী বলেন, যখন আক্রমণ হয় পুলিস ছিল কিছুটা দূরেই। তাও ওরা আটকাতে পারেনি। আমরাও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরোধ করতে পারিনি।