Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সব বুথে বিএলএ দিতে ল্যাজেগোবরে রাম-বাম

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য বিএলএ দিতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা রাম-বামের। নদীয়া জেলার অধিকাংশ বুথেই বিএলএ দিতে পারেনি সিপিএম ও বিজেপি।

সব বুথে বিএলএ দিতে ল্যাজেগোবরে রাম-বাম
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার জন্য বিএলএ দিতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা রাম-বামের। নদীয়া জেলার অধিকাংশ বুথেই বিএলএ দিতে পারেনি সিপিএম ও বিজেপি। সেই জায়গায় এজেন্ট দেওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঘাসফুল শিবির। মঙ্গলবার সারাদিন তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের বিএলওর ছায়াসঙ্গী হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে ঘাসফুল শিবির ব্লকে ব্লকে ওয়ার রুম খুলেছে। যেখানে এসআইআরের যাবতীয় কাজে মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই কাজের মাধ্যমেই নির্বাচনের প্রাক্কালে জনসংযোগ সারছে ঘাসফুল শিবির। মঙ্গলবার প্রথম দিন বিকেল পর্যন্ত নদীয়া জেলাজুড়ে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষকে ইনিউমারেশন ফর্ম দিয়েছেন বিএলওরা। তবে প্রথমদিন অনেক বিএলওকেই এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যে, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকার সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফর্ম ফিল আপ করবেন। বিএলওরা প্রশ্নকারীদের বুঝিয়ে দেন যে, বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম থাকা সকলকেই এই ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় মোট ৪৬৮৭টি বুথ রয়েছে। যার মধ্যে তৃণমূল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৮০০টি বুথে এজেন্ট দিতে পেরেছে। যার মধ্যে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় ২১৭০টি বুথে এজেন্ট দিয়েছে। সেই জায়গায় কিছুটা পিছিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা। আবার গেরুয়া শিবির ৩১০০টি বুথে এজেন্ট দিতে পেরেছে। যার মধ্যে সিংহভাগটাই রানাঘাট সাংগঠনিক জেলায়। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলায় ৫০ থেকে ৫৬ শতাংশ বুথেই এজেন্ট দিতে পেরেছে। মূলত চাপড়া, কালীগঞ্জ, করিমপুর-২ ব্লকের মতো সংখ্যালঘু এলাকায় এজেন্ট দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে‌। অন্যদিকে সিপিএমের তরফ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বুথে এজেন্ট দেওয়া হয়েছে। লোকবলের অভাবে অনেক জায়গাতেই রাম-বাম শিবির একজন বিএলএকে দিয়ে একাধিক বুথের কাজ করাচ্ছে। 
রাজনৈতিক মহলের দাবি, দীর্ঘ সময় থাকার কারণে সাংগঠনিক ভাবেও শক্তিশালী হয়েছে ঘাসফুল শিবির। সেইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করায়, এই বিষয়ে দক্ষ কর্মীর অভাব নেই তৃণমূলে। অন্যদিকে নদীয়া দক্ষিণে সাংগঠনিকভাবে বিজেপি ভিত শক্ত হলেও, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নদীয়া উত্তরে সাংগঠনিকভাবে অতটাও শক্তিশালী নয় তারা। তার উপর গেরুয়া শিবিরেও ভোটার তালিকার খুঁটিনাটি জানা দক্ষ কর্মীর অভাব রয়েছে। তবে সিপিএমের ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী থাকলেও লোকবল কম। 
এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে আতঙ্কের যে আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে এই কর্মসূচির মাধ্যমে, বুথের যোগ্য ভোটাররা যাতে ফর্ম ফিল আপ করে, তা সুনিশ্চিত করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। তার জন্য করিমপুর, কালীগঞ্জ, পলাশীপাড়া, চাপড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় হেল্প ডেস্ক খুলে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করছেন তৃণমূল কর্মীরা। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি মহুয়া মৈত্র বলেন, আমরা সকল বুথেই এজেন্ট দিয়েছি। তাঁরা বিএলওদের সঙ্গে থাকছেন। 
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস করেন, সাংগঠনিকভাবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদেরকে বিএলএ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজের বুথের সকল ভোটারের ব্যাপারে অবগত রয়েছেন। হিন্দু এলাকায় এজেন্ট দেওয়া আমাদের সম্পূর্ণ হয়েছে। 
সিপিএম নেতা সুমিত বিশ্বাস বলেন, ভয়-ভীতি-সন্ত্রাস ছাড়া আমরা গতবারের থেকে বেশি বুথে এজেন্ট দিয়েছি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ