শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: পদে নেই। প্রচারের আলোতেও থাকেন না। কিন্তু দলের সংগঠনের কাজে তাঁর ‘গোপন’ উপস্থিতি দলের কর্মীদের জানা। বিজেপির অন্দরের আলোচনা, আগামী পুরভোটে সংগঠন সাজানো থেকে প্রার্থী বাছাই— বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন সুবীর শীল। দলের কর্মীদের একাংশের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই ‘কিং মেকার’। বারাসত পুরসভার কাঞ্চনতলা এলাকার বাসিন্দা বিজেপি নেতা সুবীর শীল। বছর ৩৫-এর সুবীরের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জেলার রাজনীতিতে তিনি কখনই প্রকাশ্যে আসেন না। তবে, রাজ্য বিজেপির অন্দরে তাঁর পরিচিতি দীর্ঘদিনের। রাজ্য সভাপতি হওয়ার আগে থেকেই শমীক ভট্টাচার্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠবৃত্তের মধ্যে রয়েছেন সুবীর। ফলত, রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সংগঠনের খুঁটিনাটিও তাঁর নখদর্পণে। সুবীরের রাজনৈতিক কাজের ধরনও আলাদা। পদ তাঁর কাছে বড় নয়। কর্মীদের সঙ্গে মিশে থাকাটাই স্বভাব। সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া থেকে সাংগঠনিক বৈঠক সবেতেই তিনি থাকেন। নতুন প্রজন্মের বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের সংগঠনের কাজে যুক্ত করা এবং পুরানো ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরে ইতিবাচক চর্চা রয়েছে। বারাসত বিধানসভায় বিজেপির জয়ের নেপথ্যেও সুবীরের ভূমিকাও দলের অন্দরে চর্চিত ইস্যু। বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন পুরসভায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। বুথ থেকে নেতৃত্বের স্তর পর্যন্ত সমন্বয় বাড়ানো। নতুন মুখকে সামনে আনা। পুরভোটের এই প্রস্তুতিতেই সুবীরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে দলের অন্দরে আলোচনা। বিধানসভায় সাফল্যের পরে এবার পুরসভা। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় পদহীন এই ‘কিং মেকার’কে ব্যবহার করার ব্যাপ্তি এবার কতটা বাড়ে, নজর সেদিকেই। তবে, নিজেকে ‘কিং মেকার’ বলতে নারাজ সুবীর। তিনি বলেন, আমি দলের সাধারণ কর্মী। পদ আমার কাছে বিষয় নয়, দলই সবার আগে। বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী হোক, কর্মীরা আরও বেশি করে দলের কাজে যুক্ত হোন এটাই চাই। বারাসতের বিজেপি নেতা রাজা সাহানির কথায়, সুবীরের সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ খুব ভাল। নতুন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। দলের স্বার্থকে সামনে রেখে নেপথ্যে থেকে কাজ করার মানসিকতা আছে সুবীরের।



