Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নীলবাতির গাড়ি চেপে ঘুরত ছেলে সহ নয়ডায় ধৃত নেতা, বিভাসের উপদেষ্টা প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিস ধর!

সঙ্গে থাকতেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরা সশ্রস্ত্র রক্ষীও।

নীলবাতির গাড়ি চেপে ঘুরত ছেলে সহ নয়ডায় ধৃত নেতা, বিভাসের উপদেষ্টা প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিস ধর!
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এলাকায় নীলবাতি লাগানো গাড়িতে চেপে ঘুরে বেড়াতেন নয়ডায় গ্রেপ্তার হওয়া নলহাটির প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী ও তাঁর ছেলে। সঙ্গে থাকতেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরা সশ্রস্ত্র রক্ষীও। অভিযোগ, নিজেকে ইন্টারন্যাশনাল পুলিস অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ও ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের পদাধিকারী বলে পরিচয় দিতেন। বিভাসের বাড়ি নলহাটির কৃষ্ণপুর গ্রামে। স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধ উপায়ে টাকা রোজগারের নেশাই তাঁর কাল হল। 

Advertisement

বছর দুয়েক আগেও বিভাস ছিলেন সংবাদের শিরোনামে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে ধৃত কুন্তল ঘোষ, গোপাল দলপতির মুখে শোনা যায় তাঁর নাম। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য ও তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও বিভাসের দহরম-মহরম ছিল সর্বজন বিদিত। কৃষ্ণপুরে বাড়ি লাগোয়া কয়েক বিঘা জায়গার উপর গড়েছেন অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম। ওই গ্রামেই বিএড এবং ডিএলএড মিলিয়ে চারটি কলেজ রয়েছে তাঁর। রয়েছে ফার্মাসি কলেজ ও আয়ুবের্দিক ওষুধ তৈরির কারখানা। সিউড়ির হরিপুর গ্রামেও আশ্রমের পাশাপাশি বিশাল জায়গা জুড়ে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তুলছেন। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি থাকলেও ২০২০ সাল থেকে তিনি সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউসিং কর্পোরেশনের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মনোনীত একজন ডিরেক্টর। বেশ কয়েকবার তাঁর আশ্রমে এসেছেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ দুই রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা।
বিভাসকে চেনেন এমন অনেকেই সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, অনেক আগে থেকেই বেশ ধুরন্ধর ছিলেন বিভাস। বাম আমলেও তাঁকে ছাড়া বিএড, ডিএলএড কলেজের অনুমোদন ও নবীকরণ হতো না। কলকাতার মানিকতলায় অফিস ছিল। সেটা দিনে নয়, রাতে খোলা থাকত। তৃণমূলে থাকাকালীনও একই ভূমিকায় ছিলেন তিনি। এমনটাই পড়শিদের অভিযোগ। 
এলাকার বাসিন্দারা জানান, তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গঠন করার পর বিভাস এলাকায় নীলবাতি লাগানো গাড়িতে ঘুরতেন। তাঁকে ঘিরে থাকত কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাকে রক্ষীও। মাস দুয়েক আগে বন্ধুদের চাপিয়ে রামপুরহাটে নীলবাতি লাগানো গাড়িতে ঘুরতে দেখা যায় তাঁর ছেলে অর্ঘ্যকে। সেইসময় রামপুরহাট থানার পুলিস ধরে এবং নির্দিষ্ট ধারায় কেসও হয়। যদিও পুলিস জানিয়েছে, সেই সময় গাড়িতে ছিল না অর্ঘ্য। তবে তাঁর নামে কেস হয়েছিল। শুধুমাত্র চালককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। স্থানীয়রা বলেন, সবকিছুই তাঁর দ্বারা সম্ভব, এমন ভাব দেখাতেন বিভাস। যে কোনও উপায়ে টাকা রোজগারই তাঁর নেশা ও পেশা ছিল। 
এদিকে বিভাসের ইন্টারন্যাশনাল পুলিস অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন নামে খোলা ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি, অ্যাডভোকেট ও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি নেতা দেবাশিস ধরের নাম রয়েছে। পরামর্শদাতা হিসেবে দেবাশিসবাবুর নাম ও ছবি জ্বলজ্বল করছে। যদিও দেবাশিসবাবুকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল পুলিস অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো একটা এনজিও। এরা পুলিসের কাজে বা তদন্তে সহায়তা করে। সরকারের কাছে রেজিস্ট্রেশনও করা রয়েছে। নয়ডায় যেখানে অফিস সেটা ভাড়া নেওয়া। সেখানে থানা কী করে বানিয়েছে, বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমিও অনুকূল ঠাকুরের শিষ্য। দেওঘরের আশ্রমে বিভাসের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। আর অ্যাডভাইজারের কাজ হল উপদেশ দেওয়া। যদিও উনি কোনদিন উপদেশ নিতে আসেনি। এর বাইরে ওরা কী করেছে, তা বলতে পারব না। কেউ যদি আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করে তা হলে পুলিস তো ছাড়বে না।’ • ধৃত বিভাস

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ