সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে চলতি বছরের ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এসেছিলেন তারকেশ্বরে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলের জন্য তারকেশ্বর বালিগড়ি-১ পঞ্চায়েতের বাওনারপাড়ে তিন ফসলি জমি দিয়েছিলেন চাষিরা। জমির উপর ফেলা হয়েছিল পাথর গুঁড়োর প্রায় পাঁচ ফুট আস্তরণ। বুধবার তিনফসলি সেই জমিতে পুনরায় পাথর ফেলার চেষ্টা কেউ বা কারা শুরু করা মাত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় চাষিরা। ওই জমি উপযুক্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন চাষিরা। জমি ফিরে পেতে গঠিত হয়েছে ‘তারকেশ্বর বাওনারপাড় ভূমিরক্ষা কমিটি’।
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের ঝাঁজে পরিবর্তন এসেছিল রাজ্যে। এবার বিজেপি আমলে তারকেশ্বরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমি চাষযোগ্য করে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামলেন ভূমিপুত্ররা। তারকেশ্বর প্রবেশের মূল রাস্তার পাশে তিন ফসলি মূল্যবান জমি। চাষিদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, একদিনের ওই অনুষ্ঠান শেষে ফেরত পাওয়া যাবে জমি। কথা হয়েছিল বাদাম, তিল সহ অন্যান্য ফসলের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেওয়া হবে। ৩০ শতাংশ চাষি বাদাম চাষের ক্ষতিপূরণ পায়নি। ধান চাষ করা যায়নি, ক্ষতিপূরণ মেলেনি তারও। জমির উপর পাথরের গুঁড়োর আস্তরণ বিছিয়ে চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ওই জমি কোনোভাবেই চাষের উপযুক্ত নয়।
স্থানীয় চাষি কমল বেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভার পর আমাদের বলা হয় তারকেশ্বর শ্রাবণী মেলা জাতীয় মেলা হয়েছে। বিশ্ব দরবারে, তারকেশ্বরকে তুলে ধরতে এই জমি ব্যবহার করতে দেওয়া হোক। অনিচ্ছা থাকলেও, বাধ্য হয়েছিলাম জমি দিতে। জমির উপর পাথরের গুঁড়ো ফেলে চাষের জমির সম্পূর্ণ চরিত্র বদল করে দেওয়া হয়েছে। ধানের ক্ষতিপূরণ আমরা পাইনি। এখন পুনরায় জমিতে পাথর ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই না। চাষের উপযুক্ত করে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়ে স্বপ্না মজুমদার সহ অন্যান্য মহিলারা বলেন, ভোটের সময় লাঙল কাঁধে নিয়ে নিজেকে ‘চাষির ব্যাটা’ বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান। বিধায়ক হওয়ার পর কথা দিয়েছিলেন, জমি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এখন ওঁনার দেখা পাই না। প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি।
চাষি মলয় মজুমদার বলেন, ২৮ আগস্ট শ্রাবণী মেলা শেষ হলে জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেছিল। সামনে আলু চাষ। এই এলাকার সব থেকে অর্থকরী ফসল। জমি তৈরি করতে আমাদের সময় লাগবে। প্রশাসনের দরবারে গিয়ে বারে বারে অপমানিত-লাঞ্ছিত হচ্ছি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ক্ষুদ্র চাষিরা আন্দোলনে নেমেছিষ। এই আন্দোলন বন্ধ করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে জমি ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এই বিষয়ে তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান বলেন, ২৬ নং রাস্তার মেরামতির কাজের জন্য আনা পাথর ভুলবশত ওই জায়গায় নিয়ে চলে যায় লরির চালকরা। ওই জায়গায় কোন পাথর পড়ছে না। ধান চাষের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হচ্ছে। জমি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে না পারলে, প্রয়োজনে আলু চাষের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র