সংবাদদাতা, মালদহ: ইংলিশবাজার পুরসভায় চেয়ারম্যানের চেম্বারে বসে কথা বলার ফাঁকেই হাতে ধরা মোবাইল ফোনে ঘনঘন চোখ রাখছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলার। ঘরে হাজির আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলারও নিজেদের মধ্যে আলোচনার অবসরে এক ঝলক দেখে নিচ্ছিলেন নিজেদের স্মার্টফোনের স্ক্রিন। পরে জানা গেল এসআইআর সংক্রান্ত এক বিশেষ দলীয় অ্যাপে নিজেদের এলাকার সর্বশেষ ফিগারে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলেন তাঁরা। এই বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমেই তাঁদের কাছে চলে আসছিল হিয়ারিংয়ে ডাক পেয়েছেন কতজন। এই বিশেষ অ্যাপই তৃণমূলকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে রেখেছে বলে দাবি ওই তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের।
ইংলিশবাজার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার গৌতম দাস বলেন, আমাদের যেমন সাংগঠনিক একটা কাঠামো রয়েছে তেমনই নিজেদের এলাকার এসআইআর পরিস্থিতির ওপর নিখুঁত নজর রাখতে রয়েছে এই অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সম্মত বন্দোবস্ত। আমরা এই অ্যাপ থেকে জানতে পারছি আমাদের এলাকা থেকে আর কতজনকে এসআইআরের শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।
গৌতমবাবু ব্যাখ্যা করে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় দলের নিঁখুত অংশগ্রহণের জন্য বিধানসভা ভিত্তিক এক বা একাধিকজন দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেও এমন দায়িত্বে রয়েছেন কয়েকজন। তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় সমস্যার শিকার মানুষের কাছে যাচ্ছেন। ভোটারের অভিযোগ নথিভুক্ত করে আমাদের অ্যাপেই আপলোড করে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দলীয় ইনচার্জরা। যে ভোটার সমস্যায় পড়ছেন তাঁর মোবাইলে আমাদের অ্যাপ থেকে ওটিপি যাচ্ছে। সেই ওটিপি দিয়ে আমাদের অ্যাপে আমরা তুলে রাখছি পুরো বিষয়টি। আমাদের জনসংযোগের কাজও হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটিই অত্যন্ত আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর। এতে ফাঁকিবাজির কোনও জায়গা নেই। বিজেপি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভাবতেও পারবে না আমরা কতটা আধুনিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে রয়েছি। নির্বাচনের ফলই বুঝিয়ে দেবে শুধু ধর্মের জিগির তুলে বিজেপি ফায়দা করতে পারবে না।
জেলা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র তথা ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান- ইন-কাউন্সিল সদস্য শুভময় বসু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের অভিভাবিকা। আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন আমাদের। বিজেপি ভাবতেও পারবে না আমরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কতটা নিবিড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি মানুষের সঙ্গে।
পাল্টা মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের ভরসা প্রযুক্তি। আমাদের ভরসা তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলতে রাজ্যের মানুষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তৃণমূল অ্যাপ নিয়ে থাকুক। আমরা মানুষকে নিয়ে আছি। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন দরকার। কোনও অ্যাপ তৃণমূলকে রক্ষা করতে পারবে না।