Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

প্রয়াত খালেদা জিয়া

আগামী ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অশান্ত বাংলাদেশে। তার ঠিক আগে ভারতের পড়শি দেশের রাজনীতিতে মহীরুহ পতন।

প্রয়াত খালেদা জিয়া
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: আগামী ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অশান্ত বাংলাদেশে। তার ঠিক আগে ভারতের পড়শি দেশের রাজনীতিতে মহীরুহ পতন। দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গলবার ভোর ৬টা নাগাদ ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদার দল বিএনপির তরফে তাঁর জীবনাবসানের খবর জানানো হয়েছে। গতকাল সাধারণ নির্বাচনে খালেদার প্রার্থীপদের মনোনয়নও পেশ হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই এল দুঃসংবাদ। কয়েকদিন আগেই দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন ভঙ্গ করে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা খালেদা-পুত্র তারেক রহমান। এদিন ভগ্ন হৃদয়ে তিনি বলেন, ‘মা আর নেই!’ বিএনপির নেতারা জানাচ্ছেন, বুধবার পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের কাছে ঢাকা মানিক মিঞা অ্যাভিনিউয়ে খালেদার শেষকৃত্যের প্রার্থনা হবে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্যে অংশ নেবেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জিয়ার প্রয়াণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং একদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
১৯৪৫ সালে অবিভক্ত বাংলার জলপাইগুড়িতে জন্ম হওয়া খালেদা জিয়াই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। মাথায় ঘোমটা এবং ঢাউস রোদচশমা ছিল তাঁর ‘ট্রেডমার্ক’! দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিন দফায় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অথচ রাজনীতিতে একসময় ছিল তাঁর ঘোর অনীহা। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ছ’বছর পর, ১৯৭৭ সালে সেদেশের প্রেসিডেন্ট হন খালেদার স্বামী জিয়াউর। পরের বছরই জন্ম নেয় বিএনপি।১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর সেনা আধিকারিকদের গুলিতে খুন হওয়ার পর রাজনীতিতে খালেদার অনীহা কেটে যায়। এরশাদের নেতৃত্বাধীন দীর্ঘ সেনাশাসনের অবসান ঘটাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৯১ থেকে ’৯৬, তারপর ২০০১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। বহু বার খালেদাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ডও হয় তাঁর।

Advertisement


গত বছরের গণবিক্ষোভের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন জিয়ার চির প্রতিদ্বন্দ্বী তথা আওয়ামি লিগ প্রধান শেখ হাসিনা। তারপরই জেলমুক্তি হয় জিয়ার। এদিন তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের রাজনৈতিক জীবনে গভীর ক্ষতি হল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর।’ শোকাহত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, ‘বাংলাদেশের অন্যতম জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমি শোকাহত। তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব, রাজনৈতিক সহকর্মীদের সমবেদনা জানাচ্ছি।’


নিষেধাজ্ঞার জেরে আপাতত হাসিনা নির্বাচনি বৃত্তের বাইরে। জিয়ার প্রয়াণের ফলে এবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল। দুই শীর্ষ নেত্রীকে ছাড়াই ফেব্রুয়ারিতে ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন বাংলাদেশের মানুষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ