Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জানুয়ারির শেষ রবিবার, বইমেলার দিন, সাহিত্যের সঙ্গে বাঙালির আউটিং-স্ন্যাক্স ফ্রি

রবিবার মানে বইমেলার দিন। থুড়ি, জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার। হালকা কিছু খেয়ে বইমেলায় আসার দিন।

জানুয়ারির শেষ রবিবার, বইমেলার দিন, সাহিত্যের সঙ্গে বাঙালির আউটিং-স্ন্যাক্স ফ্রি
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কলকাতা: রবিবার মানে বইমেলার দিন। থুড়ি, জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার। হালকা কিছু খেয়ে বইমেলায় আসার দিন। কারণ, বইমেলার মাঠে পোস্টার, বই কিনলে খিদে পায়! নীচে ছোট সংযোজন, বিজ্ঞান তেমনটাই বলে। সমীকরণ ঠিক এমন—রবিবার মানে বইমেলা, বইমেলা মানে আউটিং, বইমেলা মানে খাওয়া-দাওয়া... স্ন্যাক্স। হাঁটতে হাঁটতে ‘ওই তো আর্জেন্তিনা!’ ঠিক যেন ‘এস নাইন’ বাসের দেখা পাওয়ার মতো। সেই আর্জেন্তিনা লেখা সাদা বাক্সের ভিতরের দেওয়ালে কিছু লোকজনের সাদা-কালো ছবি। বাঙালি তো খুঁজছে মেসি-মারাদোনাকে! তাঁদের দেখা না পেয়ে উড়ে এল উক্তি, ‘আর্জেন্তিনায় মেসি-মারাদোনা ছাড়াও আরও বিখ্যাত লোক আছে। তাঁদের কথাও তো জানতে হবে!’

Advertisement

কিন্তু কথা এখনও শেষ হয়নি প্রকাশক, প্রেস মালিকের। বইমেলার তৃতীয় দিনের দুপুরে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ানের সামনে দেখা গেল কোনও প্রকাশক ফোনে চিত্কার করছেন, ‘আমার আজকের মধ্যে ৫০ কপি চাই!’ চাই তো আরও অনেক কিছু। যেমন, একটু বেশি ডিসকাউন্ট। এমন সময় ৮ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি হাঁক দিচ্ছেন, ‘এখানে আসুন। ছোট-বড় সকলের জন্য বই আছে। ডিসকাউন্ট আছে। গিফটও আছে।’ বইয়ের সঙ্গে কী গিফট পেলে ভালো লাগবে? বই কেনার পর এক তরুণীকে মন দিয়ে বুক মার্ক বাছতে দেখে তার উত্তর পাওয়া যায়। তবে এই বইমেলা আবার অনেক কিছুর উত্তরও দিতে পারে না। যেমন, বইমেলার অডিটরিয়ামের ভিতরে তখন ভূত আর ভবিষ্যত্ নিয়ে আলোচনায় অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সেই অডিটরিয়ামে প্রবেশ করার জন্য কার্যত ঠেলাঠেলি হচ্ছে। বন্ধ দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা শুধুই বলছেন, ‘ঢোকা যাবে না।’ কেন? প্রশ্ন করলেই আবার সেই একই কথা, ‘বলছি তো ঢোকা যাবে না।’ অগত্যা পাশের স্টলে আসা অভিনেতা প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের দিকেই ছুটলেন মানুষ। এসবের মাঝেই চলছে বই দেখে, একটু উলটে পালটে কেনাকাটি। সেই বই নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কোথাও বসে একটু নেড়েচেড়ে দেখে নেওয়াও চলছে। ফুড কোর্টের মাঠে ‘বন্ধুদল’ মিলে বই হাতে তর্ক-বিতর্কও শুরু করে দিয়েছে। এই সময় আবার তর্কের বিষয় কী হতে পারে? অবশ্যই রাজনীতি! কিন্তু খাবারের আইটেম নিয়ে আর যেখানেই রাজনীতি থাকুক না কেন, বইমেলায় নেই। সন্ধ্যা নামতে জ্যাকেটের চেন টেনে ফিশ ফ্রাইয়ে কামড়, আর পুলিশকে গিয়ে জিজ্ঞেস করা, ‘দাদা, সিগারেট খাওয়া যাবে?’ হাসতে হাসতে পুলিশের অনুরোধ, ‘সামনেই তো গেট। বাইরে চলে যান।’

বইমেলা আসলে সকলকে এক করে রাখার জায়গা। তা বিদেশি স্টল হোক বা বাংলা বই, রাজনীতি হোক বা লিটল ম্যাগাজিন, খাওয়া-দাওয়া হোক বা ক্যুইজ-টাংটুইস্টার। এক করে দেওয়ার উদাহরণ, সিপিএমের ছাত্রসংগঠনের স্টলের দু’পাশে শ্রীগুরু সংঘ এবং ইসলামিক সোসাইটির সহাবস্থান। আবার অদূরে একটি স্টলের বাইরে লেখা ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ