সংবাদদাতা, কাঁথি: এবার সৈকতশহর দীঘার বিনোদনে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে লেজার-শো। দীঘার অন্যতম বিনোদন পার্ক ‘ওয়ান্ডারল্যান্ড কাজল দিঘি’ লেকে শুরু হয়েছে অত্যাধুনিক লেজার-শো। দীঘার অমরাবতী পার্কের কাছেই রয়েছে কাজলদিঘি লেক। সবুজ গাছগাছালিতে ভরা এই সুসজ্জিত পার্কের মাছখানে বড় আকারের লেক রয়েছে। টয়ট্রেন এই পার্কের অন্যতম আইটেম। লেকের ধার দিয়ে কু-ঝিকঝিক শব্দে ছুটে চলা টয়ট্রেন ছোটদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়ও বটে। যা লেকের চারদিক প্রদক্ষিণ করে। তখন এক মজা আর আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, পর্যটকরা জলাশয়ে প্যাডেল বোটে জলবিহারে সওয়ার হন। সঙ্গে শিশুদের জন্য হরেকরকম রাইড রয়েছে পার্কে। রয়েছে পাখিদের সঙ্গে আলাপ করার সুযোগও।
কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে নিরিবিলি পরিবেশে রয়েছে এই পার্ক। সব বয়সের মানুষের কাছে প্রিয় ডেস্টিনেশন ওয়ান্ডারল্যান্ড কাজল দিঘি। নানা বিনোদনের নানা উপকরণ রয়েছে এই পার্কে। পার্কের টিকিটের মূল্যও খুব বেশি নয়। এবার নতুন সংযোজন নিঃসন্দেহে লেজার-শো। এই লেজার-শো চালু হওয়ায় পার্কটির গুরুত্ব এবং আকর্ষণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার মেলবন্ধনে এই পার্ক পর্যটকদের কাছে এক নতুন বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই কাজলদিঘির শান্ত জলরাশি মেতে উঠছে আলোর খেলায়। উচ্চশক্তির রঙিন আলোকরশ্মি সুরের মুর্ছনায় আকাশ ও জলের উপর আছড়ে পড়তেই আলাদা ধরনের এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। লেকের জলে বিচিত্র আলপনার এই আলোকছটা দর্শকদের কার্যত মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখছে। পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতেই দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(ডিএসডিএ) এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই শো দেখা যাবে। মাথাপিছু প্রবেশমূল্য ধার্য করা হয়েছে মাত্র ২০টাকা। ডিএসডিএ’র তত্ত্বাবধানে বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থা পার্কটি পরিচালনা করে।
ডিএসডিএ’র কর্তাদের আশা, বিনোদনের এই আধুনিক আইটেম পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি পালক হিসেবে জুড়ল। একদিকে সমুদ্রদর্শন, জগন্নাথ মন্দির দর্শনের পাশাপাশি লেজার আলোর রোশনাই এখন পর্যটকদের কাছে উপরি পাওনা। ডিএসডিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, আমরা নতুন কিছু দিয়ে দীঘার আকর্ষণ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। লেজার-শোও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী।