সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দেশজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারির মধ্যেই নলহাটির ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হল প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক। ধরা পড়েছে এক ব্যক্তি। তাকে জেরা করছে পুলিশ। বিস্ফোরকের মালিক সে নাকি ক্যারিয়ার, তা জানার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে অবৈধ পাথর খাদানে সরবরাহ কিংবা নাশকতার ছক ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনিতেই দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে গোটা দেশ। হাই-অ্যালার্ট জারি সর্বত্র। তারপরও বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা কপালে ভাঁজ ফেলেছে বীরভূম জেলা পুলিশের। প্রাথমিকভাবে এসপি আমনদীপ বলেন, ‘বিস্ফোরকগুলি নলহাটির কোনও একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। একজনকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাই-অ্যালার্ট জারির অঙ্গ হিসেবে নলহাটির ঝাড়খণ্ড সীমানাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়ে তোলা হয়। চলছে নাকা চেকিং। মঙ্গলবার রাতে নলহাটি থেকে ঝাড়খণ্ড যাওয়ার রাস্তায় পাকুর থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানকে দ্রুত গতিতে যেতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। গাড়িটিকে দাঁড় করাতেই চালক নেমে পালিয়ে যায়। চালকের সিটের পাশে বসে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করে জেরা করতেই ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। পুলিশ গাড়ি থেকে ৫০টি ব্যাগ ভর্তি (প্রায় ২০ হাজার পিস ) জিলেটিন স্টিক উদ্ধার করে। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি সে। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিস্ফোরকগুলি। গ্রেফতার করা হয় ওই ব্যক্তিকেও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম নারায়ণ ঘোষ। বাড়ি নলহাটির ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া জয়পুর গ্রামে। বুধবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই বিস্ফোরক পাচারের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা জানতে ঝাড়খণ্ডের পাকুর থানার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে, এই প্রথম নয়। গত ৭ মে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া নলহাটির পাথর শিল্পাঞ্চল পাসিনালা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে দু’টি পরিত্যক্ত গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করে জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। গত ৭ জানুয়ারি হস্তিকাঁদা জঙ্গলের ভিতরে একটি গোডাউন থেকে ২০ হাজার পিস ডিটোনেটর, ৬ প্যাকেট অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও পাঁচ প্যাকেট তার উদ্ধার হয়। ঘটনায় নলহাটির জয়পুর লাগোয়া হরিদাসপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহে আলম নামে এক অবৈধ বিস্ফোরক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় পাশের হরিদাসপুর হাইস্কুলের বুথে বিজেপির এজেন্ট ছিল সে। এর আগে নলহাটির লক্ষণমারা পাথর শিল্পাঞ্চলের একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করে এসটিএফ। সেই ঘটনার তদন্তে নামে এনআইএ। এরপরে নলহাটির বাহাদুরপুরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মনোজ ঘোষের ক্যাশারের অফিসে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বিস্ফোরক উদ্ধার করে এনআইএ। গ্রেফতার করা হয় মনোজকে। তার কিছুদিনের মধ্যেই আমলাই গ্রামের কাছে বিস্ফোরক বোঝাই লরি আটক করে নলহাটি থানার পুলিস। আর তাতেই স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একই জায়গা থেকে বারবার বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে? পুলিশ কী করছে? অবৈধ বিস্ফোরক কারবারে রাশ টানতে কেনই বা ব্যর্থ পুলিশ?
এদিন উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলি সাধারণত পাথর খাদানে বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে লাগে। আবার শক্তিশালী বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। জেলায় ২১৭টি খাদানের মধ্যে ২১১টি পরিবেশ আদালতের নির্দেশে বন্ধের নোটিস দেয় প্রশাসন। কিন্তু সেগুলি কাগজ কলমে বন্ধ থাকলেও অধিকাংশই চালু রয়েছে। স্থানীয়রা বলছিলেন, কিছুদিন আগে অবৈধ খাদানে ধস নেম মৃত্যু হয় আট শ্রমিকের। তারপর থেকে খাদানগুল বন্ধই ছিল। দিন কয়েক হল সেগুলি ফের চালু হয়েছে। তাতেই বেড়েছে বিস্ফোরকের চাহিদা।