শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ইনিউমারেশন ফর্ম বিতরণ শেষ হতেই পূর্ব মেদিনীপুরে বিপুল সংখ্যায় মৃত, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট ও মিসিং ভোটারের হদিশ মিলল। পাঁশকুড়া শহরের নারান্দা নিউ প্রাইমারি স্কুলের ২৬৪নম্বর বুথে ৬৮জন মৃত, ২৫জন স্থানান্তর ও তিনজন ডুপ্লিকেট ভোটারের হদিশ পেয়েছেন বিএলও বিধান সাহা। কোলাঘাটের আমলহাণ্ডা পঞ্চায়েতের ১৩৩নম্বর বুথেও ৫৯জন মৃত ভোটারের ফর্ম এই মুহূর্তে বিএলও অপর্ণা সরকার সিংয়ের হেফাজতে রয়েছে। এছাড়াও সেখানে বেশকিছু মিসিং এবং স্থানান্তর ভোটারও আছেন। তমলুক পুরসভার আবাসবাড়ি ২৩৬নম্বর বুথে ৪০টি এরকম মৃত, স্থানান্তর ও ডুপ্লিকেট ভোটারের ফর্ম দিতে পারেননি বিএলও সঞ্জয় মণ্ডল। সেই নামের লিস্টে বিএলও-২দের সই করিয়ে প্রশাসনের কাছে জমা করেছেন সঞ্জয়বাবু।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৪৪২০টি বুথ। প্রতিটি বুথে বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম জমা করেছেন। জেলায় ফর্ম বিতরণের কাজ শেষ। বিএলওরা এনিয়ে রিপোর্ট জমা করছেন। আর তাতেই চমকে দেওয়ার মতো তথ্য সামনে আসছে। প্রতি বছর ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন সত্ত্বেও প্রত্যেক বুথে বিপুল সংখ্যক ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে। সেটা ইউনিউমারেশন ফর্ম বিতরণ শেষে স্পষ্ট হয়েছে। বেশকিছু ভোটারের নাম একই বুথে দু’জায়গায় রয়েছে। নিজের নাম ও বাবার নাম এক হলেও দু’টি এপিক রয়েছে। তাতে দু’টি নম্বরও রয়েছে। আবার, বুথে ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও বাড়িই খুঁজে পাননি বিএলও। সঙ্গী হওয়া বিএলএ-২ এজেন্টরাও তাঁদের হদিশ দিতে পারেননি। এমন অস্তিত্বহীন ভোটারের নামও সামনে এসেছে। আবার, মেয়েদের বিয়ের আগে এবং পরে দু’জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম থাকার কয়েক হাজার নজির রয়েছে এই জেলায়। এক জায়গায় নাম না কেটে আর এক জায়গায় নাম তোলা হয়েছে।
তমলুক পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডে আবাসবাড়ি ২৩৬নম্বর বুথে মোট ১৮জন মৃত ভোটার, ১৮জন স্থানান্তর ভোটার এবং চারজন ডুপ্লিকেট ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। একই বুথে দু’জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। নাম ও অভিভাবক এক হওয়া সত্ত্বেও দু’টি আলাদা এপিক নম্বর পাওয়া গিয়েছে। কয়েকজন মারা যাওয়ার পরও ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। এমনকি, ৮-১০বছর আগে মৃতদের নামও তালিকায় রয়েছে। পশ্চিম পাঁশকুড়া বিধানসভার অধীন নারান্দায় ২৬৪নম্বর বুথে শুধুমাত্র মৃত ভোটারের হদিশ মিলেছে ৬৮জনের। তাঁদের ইনিউমারেশন ফর্ম বাড়ির লোকজন নেননি। এছাড়া, ২৫জন স্থানান্তর এবং তিনজন ডুপ্লিকেট ভোটার সহ ৯৬টি ভোটার কার্ডের হদিশ মিলেছে বলে বিএলও জানিয়েছেন। স্থানান্তর ভোটাররা অন্য বুথে নাম তুললেও এখানে বাদ যায়নি। ডুপ্লিকেট ভোটারদের ওই একই বুথে দু’টি করে এপিক রয়েছে। পাঁশকুড়ার কনকপুর মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে ২৭৮নম্বর বুথে ২১জন মৃত ভোটারের হদিশ পেয়েছেন বিএলও বিজয় কিস্কু। সেইসব ফর্ম বিলি হয়নি। বিএলওর কাছে জমা আছে। ওই বুথে পাঁচজন ভোটারকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বিজয়বাবু বলেন, রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট এবং আমি কেউই ওই পাঁচজনের খোঁজ পাইনি। নন্দীগ্রাম বিধানসভার মহম্মদপুর পঞ্চায়েতের ৬৩নম্বর বুথে ১৫জন মৃত ভোটার এবং ন’জন স্থানান্তর হওয়া ভোটারের ফর্ম বিলি হয়নি বলে বিএলও জানিয়েছেন। একইভাবে কোলাঘাটের আমলহাণ্ডা পঞ্চায়েতের ১৩৩নম্বর বুথে ৫৯জন মৃত ভোটারের হদিশ মিলেছে। ওই বুথের বিএলও অপর্ণা সরকার সিং বলেন, মৃত ছাড়াও বেশকিছু স্থানান্তর ভোটার আছেন। তাঁরা দু’জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন।