Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চণ্ডীপুরে খোঁড়াখুঁড়ির জেরে পিচের রাস্তায় ধস, দুর্ভোগ, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজের কাজে ঢিলেমি

চণ্ডীপুর ব্লকের চিরঞ্জীবপুরে কংক্রিটের ব্রিজ তৈরির জন্য খোঁড়াখুঁড়ির জেরে বৃহস্পতিবার রাতে পিচ রাস্তা ধসে গেল।

চণ্ডীপুরে খোঁড়াখুঁড়ির জেরে পিচের রাস্তায় ধস, দুর্ভোগ, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজের কাজে ঢিলেমি
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: চণ্ডীপুর ব্লকের চিরঞ্জীবপুরে কংক্রিটের ব্রিজ তৈরির জন্য খোঁড়াখুঁড়ির জেরে বৃহস্পতিবার রাতে পিচ রাস্তা ধসে গেল। এরফলে তেরপেখিয়া থেকে হাঁসচড়া যাওয়ার ওই সড়কে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। দুই ব্লকের মানুষজন যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন। শুক্রবার দুপুরে চণ্ডীপুরের বিডিও শাশ্বতপ্রকাশ লাহিড়ি ও নন্দীগ্রাম-২ বিডিও সুপ্রতিম আচার্য ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা ধসে পড়া গোটা এলাকা পরিদর্শন করেন। ঠিকাদার সংস্থার একজন সুপারভাইজার এদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন। ব্রিজের কাজে এত দেরি কেন তা নিয়ে দুই ব্লকের অফিসাররা জানতে চান। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। আপাতত একটি অস্থায়ী রাস্তা বানিয়ে যাতাযাত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।২০২৪ সালে ২৮ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলাশাসক তানবীর আফজল এবং সভাধিপতি উত্তম বারিক চিরঞ্জীবপুরে দুনিয়া খালের উপর ওই কংক্রিটের সেতুর শিলান্যাস করেন। একদিকে চণ্ডীপুর ব্লকের দিবাকরপুর পঞ্চায়েত আর একদিকে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ পঞ্চায়েত রয়েছে। নদীর উপর কাঠের ব্রিজ বেহাল থাকার কারণে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো। তাই সেখানে একটি কংক্রিটের ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে ডব্লুবিএসআরডিএর ৪কোটি ৯৯লক্ষ ৬৫হাজার টাকা ব্যয়ে দুই ব্লক সীমানাবর্তী দুনিয়া খালের উপর ব্রিজের শিলান্যাস হয়। কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা ছিল ৫৪৫দিন।

Advertisement

শিলান্যাসের পর প্রায় ৫০০দিন পার হওয়ার পথে। কিন্তু, ব্রিজের কাজ এখনও অনেক দেরি। জমি সমস্যা সহ নানা কারণে ব্রিজের কাজ ঠিকমতো এগয়নি। ওই এলাকায় একটি দোকানঘর উচ্ছেদ করার প্রয়োজন। কিন্তু, সেচ দপ্তরের জায়গায় থাকা দোকানটি উচ্ছেদ করা যায়নি। বর্ষার আগে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ আচমকা পিচ রাস্তায় ধস নামে। এরফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন বিপাকে পড়েছে। যোগাযোগ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাঠের ব্রিজের জায়গায় কংক্রিটের ব্রিজ করতে গিয়ে এভাবে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে ভাবতেও পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা।
চণ্ডীপুর ব্লকের দিবাকরপুর এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ পঞ্চায়েত ছাড়াও বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। দিবাকরপুর হাইস্কুল, বাজার যাতায়াত করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষজন সমস্যায় পড়ছেন। এই অবস্থায় ধসে পড়া পিচ রাস্তার গা ঘেঁষে একটি অ্যাপ্রোচওয়ে বানানোর কাজ চলছে। অস্থায়ীভাবে সেই জায়গা দিয়ে যাতয়াত করা যাবে।
চণ্ডীপুরের বিডিও বলেন, রাস্তার কিছুটা অংশ চণ্ডীপুর ব্লকের মধ্যে পড়েছে। বাকিটা নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের মধ্যে পড়ে। জেলা পরিষদ থেকে ব্রিজের কাজ হচ্ছে। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ)কে জানানো হয়েছে। রাস্তার মাটি ধসে পড়ে খালপাড়ে থাকা একটি ঘরে গিয়ে পড়েছে। সেচ দপ্তরের জায়গায় থাকা ওই ঘর না সরানো পর্যন্ত কোনও কাজ করা যাবে না বলে ঠিকাদার সংস্থা জানিয়েছে। এই অবস্থায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা পরিষদকে বলা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ