নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ধস ও তিস্তার ছোবলে বিধ্বস্ত কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। যার জেরে রবিবার সন্ধ্যা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সড়ক। একই সঙ্গে ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কও ধস ও ফাটলে জেরবার। এদিকে, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের সমতলে একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ। নদীর জলে প্লাবিত গ্রামগুলির অবস্থা আরও জটিল। এর বাইরে বেহাল নিকাশির জেরে কিছু এলাকা জলবন্দি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝাঁপিয়েছে প্রশাসনের ক্যুইক রেসপন্স টিম।
উত্তরকন্যার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পাহাড় থেকে সমতলের সমস্ত এলাকার উপর নজর রয়েছে। পাহাড়ে ধস মোকাবিলায় পুলিস, প্রশাসন, পূর্তদপ্তর ও এনএইচআইডিসিএল যৌথভাবে কাজ করছে। সমতলেও নদীর বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে। জলমগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে।
দু’দিন ধরে বৃষ্টি চলায় কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন সকালে সংশ্লিষ্ট সড়কের কিছু এলাকায় পাহাড় থেকে মাটি ও পাথর পড়ে। তা সরিয়ে রাস্তা দিয়ে ছোট গাড়ি চালানো হয়। কিন্তু তিস্তা নদীর ছোবলে বিপন্ন ওই সড়কের শ্বেতীঝোরা, লিকুভীর ও তারখোলা। নদীর জলস্তর কিছুট কমতেই এলাকাগুলিতে ফাটল ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে রাস্তার একাংশ নদীগর্ভে চলে যায়। তাই তিনদিনের জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে এনএইচআইডিসিএল।
কালিম্পংগামী ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশও ধস ও ফাটলে বিধ্বস্ত। প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড় কেটে জাতীয় সড়কের ওই এলাকাগুলি তৈরি করা হবে। কালিম্পংয়ের পুলিস সুপার শ্রীহরি পান্ডে বলেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকলেও শিলিগুড়ির সঙ্গে কালিম্পং ও সিকিমের যোগাযোগের জন্য তিনটি রাস্তা চালু রয়েছে। শিলিগুড়ি-জোড়বাংলা-তিস্তাবাজার- গ্যাংটক, শিলিগুড়ি-সেভক-ডামডিম-গোরুবাথান-লাভা-আলগাড়া- গ্যাংটক, শিলিগুড়ি-সেভক-বাগরাকোট-লাভা-রংপো-গ্যাংটক, এই তিনটি রাস্তা দিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এর বাইরেও এদিন দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ের কিছু জায়গায় ধস নেমেছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা অবশ্য জানান, ধসের সেই ঘটনাগুলি তেমন মারাত্মক নয়। কিছু জায়গায় রাস্তা, আবার কোথাও বাড়ির সীমানা প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, একরাতে বহু জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেই তালিকায় আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার একাধিক স্থান রয়েছে। যার মধ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছে ১২টি স্থানে। সেগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ ১৫০ মিলিমিটারের বেশি। বাকি ১৩টি জায়গায় ১০০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হয়। এতেই জলপাইগুড়ি সদর, ক্রান্তি ও রাজগঞ্জে তিস্তা নদীর বাঁধের একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তিস্তার জলে প্লাবিত মালবাজারের টোটগাঁও, ক্রান্তির মাস্টারপাড়া, বাসুদেবপাড়া ও কেরানিপাড়ার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। বেহাল নিকাশির জেরে শিলিগুড়ি শহরের চম্পাসারি, মাটিগাড়ার পরিবহণনগর, নকশালবাড়ি, বাগডোগরার কিছু নিচু জায়গায় জমেছে বৃষ্টির জল।
শ্বেতীঝোরায় জাতীয় সড়কে ধস। - নিজস্ব চিত্র।