Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাতীয় সড়কের বড় অংশে ধস বন্ধ কলকাতা-দিল্লি লেন, আসানসোলে কাঠগোড়ায় বেআইনি কয়লা খাদান

রবিবার ভোরে আসানসোল হাটগাড়ুই এলাকায় ১৯নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামে। প্রথমে একটি গর্ত দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ধস বাড়তে থাকে

জাতীয় সড়কের বড় অংশে ধস বন্ধ কলকাতা-দিল্লি লেন, আসানসোলে কাঠগোড়ায় বেআইনি কয়লা খাদান
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রবিবার ভোরে আসানসোল হাটগাড়ুই এলাকায় ১৯নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামে। প্রথমে একটি গর্ত দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে ধস বাড়তে থাকে। রাস্তাজুড়ে ফাটল ধরে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একটি লেন দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য লেন দিয়ে দুই অভিমুখে গাড়ি যাতায়াত করায় দীর্ঘ যানজটে নাকাল হন যাত্রীরা। পরে ট্রাফিক পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Advertisement

কলকাতা সহ পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের রাজধানী দিল্লির সড়ক যোগাযোগের লা‌ইফলাইন এই জাতীয় সড়কেরই অস্তিত্ব সঙ্কটে। বাম আমলে বেপরোয়া কয়লা চুরির জেরেই এই ঘটনা বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ধসের পরই এদিন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে থাকে জেলা ও মহকুমা প্রশাসন। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ প্রথমে ছোট ধস মনে করলেও পরবর্তীকালে ধসের বীভৎসতা দেখে ইসিএলকে চিঠি লিখছে। তারা চাইছে, অবৈধ কয়লা খাদান জাতীয় সড়কের ওই অংশে কোনও ক্ষতি করেছে কি না, তা যেন ইসিএল সার্ভে করে জানাক। 
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রমোদ মাহাত বলেন, প্রথমে ছোট ধস মনে হলেও পরে রাস্তার বিস্তীর্ণ এলাকা ধসে যায়। আমরা জানতে পেরেছি ওই এলাকায় খাদান থাকার জেরে ধস হতে পারে। জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট দিচ্ছি। পাশাপাশি ইসিএলের সাহায্য নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা খনি জাতীয়করণের আগে হাটগাড়ুই এলাকায় বেসরকারি কোম্পানির কয়লাখনি ছিল। যে অংশে ধস হয়েছে তার অদূরেই খনিমুখ ছিল। পরে খনিগুলি বালি দিয়ে ভরাট না করেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দিয়ে তারা চলে যায়। পরবর্তীকালে ওই এলাকাজুড়ে বাম আমলে বেপরোয়াভাবে অবৈধভাবে কয়লা লুট হয় বলে অভিযোগ। বাম আমলে নেতাদের একাংশের ছত্রচ্ছায়ায় আসানসোল উত্তর থানা এলাকায় এক কয়লা মাফিয়ার উত্থান হয়। আসানসোল খনি অঞ্চলজুড়ে সে ছড়ি ঘোরাত। এই অংশ ছিল তার খাসতালুক। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মাটির তলা ফাঁকা করে দিলেও কারও প্রতিবাদ করার সাহস হতো না। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তার জেরেই এই ধস। 
স্থানীয় বাসিন্দা প্রণব মুখোপাধ্যায়, অচিন্ত্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাম আমলে বেপরোয়া কয়লা লুটের জন্য এলাকা কার্যত শূন্যে ভাসছে। যে কোনও সময় বড়সড় বিপদ হতে পারে। আমরা চাই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকা সার্ভে করাক। না হলে হয়তো পুরো রাস্তাই মাটির তলায় চলে যাবে। উল্লেখ্য, ১৯নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর আগে আসানসোলের কালিপাহাড়ীতেও জাতীয় সড়কটি ধসে গিয়েছিল। বিকল্প রাস্তা করতে হয়েছিল। ধসে যাওয়া রাস্তা মেরামতির কাজে সাবধানী জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, তাই যদি হয়ে থাকে ১৪বছর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলেও কোনও পদক্ষেপ হয়নি কেন?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ