সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া, পালিগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় অজয়ের বাঁধে একাধিক জায়গায় মাটি ধসে গিয়েছে। বুধবার দুপুরে মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া, পালিগ্রাম অঞ্চলে অজয়ের বাঁধ পরিদর্শন করলেন জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। সেচদপ্তরকে তড়িঘড়ি কাজের নির্দেশ দেন জেলাশাসক। জেলাশাসক বলেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্ষায় অজয় নদে জল বাড়লেই কৃষিজমি থেকে বসতভিটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদ তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা বাড়ে। মঙ্গলকোটের বিস্তীর্ণ এলাকা দিয়ে অজয় নদ কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটের কাছে ভাগীরথীতে মিশেছে। অজয় নদ আউশগ্রামের পুরুচা থেকে মঙ্গলকোটের নতুনহাট পর্যন্ত ৩৫কিলোমিটার অংশ সেচদপ্তরের গুসকরা ডিভিশনের আওতায় পড়ে। আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটজুড়ে একাধিক জায়গায় ভাঙন রোধে কাজ শুরু করল সেচদপ্তর। মঙ্গলকোটের লাখুরিয়া অঞ্চলেও বেশ কয়েকটি জায়গায় ত্রুটি রয়েছে। ঝিলেরা গ্রামে বাঁধের বেহাল দশা। বেশ কয়েকটি জায়গায় মাটি ধসে গিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ধসে গিয়েছে। ফলে নদীতে জল বাড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাসিন্দারা। এদিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন জেলাশাসক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাটোয়ার এসডিও অহিংসা জৈন, সেচদপ্তরের গুসকরা ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সামসুল হক সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিন তাঁরা কুরগ্রাম ও বারগ্রামেও যান। সেখানেও একই অবস্থা। কুরগ্রামে এক জায়গায় কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাটোয়ার এসডিও বলেন, আমরা সব জায়গা ঘুরে দেখেছি। সেচদপ্তরকে কাজ করতে বলা হয়েছে।
জেলাশাসকের নির্দেশে আউশগ্রামের সাঁতলা এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলকোটেও খুব শীঘ্র কাজ শুরু করবে সেচদপ্তর।
ঝিলেরা এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারজন্য ইতিমধ্যেই ৪০লক্ষ টাকার ডিপিআর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও মঙ্গলকোটজুড়ে ১৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুরোদমে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।
সেচদপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সামসুল সাহেব বলেন, বর্ষায় নদীতে জল বাড়লে বাঁধের গায়ে ধাক্কা খায়। প্লাবিত হলেই এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ থাকে। এবার আমরা বাঁধ রক্ষা করতে ক্যুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছি। তবে এখন থেকেই আমরা আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটে অজয় নদের বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করে দিয়েছি। ঝিলেরায় টাকা বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে।
আউশগ্রাম-২ ব্লকের দেকুড়ি, রামনগর, মালিয়াড়া, মালোচা, গোপালপুর, বনকুল, হরিনাথপুর, নৃসিংহপুর, পল্লিশ্রী, নপাড়া, পাথরকুচি গ্রামগুলি অজয়ের তীরে রয়েছে। এই এলাকাগুলি ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রাম এর আগে অজয়ের জলে প্লাবিত হয়েছিল। ভেদিয়া অঞ্চলের সাঁতলা, ধুকুর, বুধরা প্রভৃতি গ্রামগুলি অজয়ের ধারে রয়েছে। ওই এলাকায় আগে বাঁধে ফাটল দেখা গিয়েছিল। তাই ভাঙন রোধের কাজ করা হচ্ছে।