নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এক মাসের মধ্যে চতুর্থবার। রবিবার কুলটি থানা এলাকার এথোড়া মোড়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডে ধস নামে। পুরো এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সড়কের নীচের মাটি ধসে বারবার যান চলাচল স্তব্ধ হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংশ্লিষ্ট রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক বলেন, এই অংশ দিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের পাইপ গিয়েছে। সেখানেই ধস নেমে গর্ত হয়ে গিয়েছে।
চলতি বর্ষায় প্রথম ধস নেমেছিল ১৯নম্বর জাতীয় সড়কের চৌরঙ্গি মোড়ে। তারপর বড় ধসটি হয়েছিল আসানসোল উত্তর থানার চন্দ্রচূড় মন্দিরের অদূরে জাতীয় সড়কের ধানবাদগামী লেনে। পরে ওই এলাকা থেকে দু’কিলোমিটার দূরে এথোড়ার কাছে জাতীয় সড়কে ধস নামে। এদিন ওই এলাকার সার্ভিস রোডে ধস নামে। খনি অঞ্চলে একদিকে জাতীয় সড়ক মরণফাঁদ হয়ে গিয়েছে, তেমনই সার্ভিস রোডগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দুর্গাপুরের গোপালমাঠ থেকে কাদারোড হয়ে মেনগেট পর্যন্ত যাওয়া সার্ভিস রোডটি পুকুরে পরিণত হয়েছে। বড় বড় গর্তে দাঁড়িয়ে থাকছে জল। বাইক ও স্কুটি রাস্তার গভীর গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে।
শুধু জাতীয় সড়ক নয়, অন্যান্য রাস্তাও টানা বৃষ্টিতে বেহাল হয়ে পড়েছে। জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তা সবচেয়ে খারাপ। সেখান থেকে কয়লা ও বালি তোলা হয়। ভারী গাড়ি চলাচলের জেরে গ্রামের রাস্তাগুলির হাল অত্যন্ত খারাপ। প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। রবিবার বিজেপি নেতা-কর্মীরা চুরুলিয়ায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। পাল্টা মাঠে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পুলিস কোনওরকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। রাস্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রবল ক্ষোভ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারাও একাধিকবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। আসানসোল থেকে গৌরাণ্ডি হয়ে রুনাকুড়া ঘাট যাওয়ার রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বারাবনি ব্লকের হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কয়েক বছর আগেই রাস্তাটি সংস্কার করা হয়েছিল। এখন আমডিয়া মোড়ের কাছে সেই রাস্তা ভেঙে চৌচির। অভিযোগ, কোলিয়ারির ভারী ডাম্পার যাতায়াতের জেরেই এই অবস্থা। ওই রাস্তা দিয়ে একাধিক বেসরকারি বাস চলাচল করে। বাসের চালক অশোক দাস বলেন, এমন অবস্থা যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে নিয়ামতপুর-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কও। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু গাড়ি যাতায়াত করে। মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করছে। কুলটির বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার একাধিকবার এনিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন। রাজ্য সড়ক, জাতীয় সড়কের পাশাপাশি ভেঙেছে শহরের রাস্তাও। আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, পুজোর আগেই রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।