Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের ধস ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে, পুজোর মুখে উদ্বেগ

ফের ধসে বিধ্বস্ত কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন মহাসড়ক। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের লিকুভিরের কাছে নামে ধস।

ফের ধস ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে, পুজোর মুখে উদ্বেগ
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের ধসে বিধ্বস্ত কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন মহাসড়ক। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের লিকুভিরের কাছে নামে ধস। তাই এই রাস্তায় যান চলাচল নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করেছে এনএইচআইডিসিএল। পুজোর মুখে এনিয়ে উদ্বিগ্ন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জাতীয় সড়ক বিপজ্জনক হওয়ায় পর্যটন শিল্পে ধাক্কা লেগেছে। পুজোর মুখেও পাহাড়ে হোটেল বুকিংয়ে তেমন গতি নেই। 

Advertisement

বৃষ্টির জেরে এদিন সকালে পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে নুড়ি, পাথর, মাটি হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে লিকুভিরে। যার জেরে জাতীয় সড়কের সংশ্লিষ্ট এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের দু’পাশে লম্বা লাইন পড়ে যায় যানবাহনের। দিনভর চেষ্টা চালিয়ে প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ধস সরায়। বিকেল পর্যন্ত ছোট যানবাহন চালানো হয়। ধসের কারণে আগামী তিনদিন সংশ্লিষ্ট রাস্তা দিয়ে সবরকম যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে এনএইচআইসিডিএল। তারা বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 
এদিকে, দু’দিন পর শুক্রবার ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস। সেই দিন ছাড়াও পর পর আরও দু’দিন ছুটি। আর দুর্গাপুজোরও বেশি দিন নেই। মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ পরই পর্যটনের মরশুমের সূচনা হবে। তবু কালিম্পং ও প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম কেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার পালে তেমন হাওয়া নেই। কারণ ধস বিধ্বস্ত জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বিপজ্জনক। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আবহাওয়া অনুকূল নয়। কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দশাও বেহাল। তাই ১৫ আগস্টকে ঘিরে পাহাড়ে যাওয়ার আগ্রহ পর্যটকদের মধ্যে কম রয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক চাঙ্গা না থাকায় পর্যটন ব্যবসা এখনও জমেনি। পুজোর মুখেও হোটেলে ৩০ শতাংশ রুম বুকিং হয়নি। হোমস্টে, হোটেল, গাড়ির ব্যবসা মার খাবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পর্যটকরা রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনই খোঁজখবর নিচ্ছেন। 
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহেই একাধিকবার ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জাতীয় সড়ক। কখনও পাহাড়ের উঁচু অংশ ধসে রাস্তার উপর আছড়ে পড়ছে। আবার কখনও কখনও রাস্তার অংশ গ্রাস করছে তিস্তা নদী। বেশকিছু জায়গায় নদীর জলস্তরের উচ্চতা জাতীয় সড়কের প্রায় সমান। এই অবস্থায় রাস্তাটি চাঙ্গা করার দাবিতে পথে নেমেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই সম্রাটবাবুরা এ বিষয়ে এনএইচআইডিসিএলের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। পর্যটন শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতি বাঁচাতে হলে স্থায়ীভাবে রাস্তাটি মেরামত করা জরুরি। এই দাবি এনএইচআইডিসিএলের কাছে জানানো হয়েছে বলে জানান সম্রাট সান্যাল।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ