সংবাদদাতা, কাটোয়া: নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরিতে বোলপুর-শাঁখাই রাস্তার একাংশে ধস নেমেছে। রাস্তার পাশ দিয়েই ঈশানী নদী বয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগে নদীতে জলের চাপ বেড়েছিল। তাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে গার্ডরেল দিয়ে রাস্তার ওই অংশ ঘিরে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেতুগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ওই রাস্তা ধসে গিয়েছে। আমরা পূর্তদপ্তরকে জানিয়েছি। দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দিয়েছি।
কেতুগ্রাম-২ ব্লকে ঈশানী নদীর পাশ দিয়েই শাঁখাই থেকে রাস্তাটি গিয়ে পাঁচুন্দিতে মিশেছে। সেখানে কাটোয়া-বোলপুর রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। আবার ওই রাস্তা ধরে গঙ্গাটিকুরি হয়ে বন্দরের মোড় দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার সালার, সোনারুন্দি যাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন্ত লাহা, সুব্রত পাল বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ জেলার যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। এছাড়াও ওই রাস্তা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, বিডিও অফিস যাওয়া হয়। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। যেভাবে রাস্তার পাশে ধস নেমেছে। তাতে শীঘ্রই ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, কেতুগ্রামের শাঁখাই থেকে পাঁচুন্দির মোড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিমি রাস্তাটি পূর্তদপ্তরের অধীনে রয়েছে। আর শাঁখাই থেকে গঙ্গাটিকুরি পর্যন্ত প্রায় সাত কিমি রাস্তায় বারবার ধস নামছে। শাঁখাইতে এই রাস্তার পাশে রয়েছে ভাগীরথী। ভাগীরথীর পাড়েও এর আগে রাস্তায় ধস নেমেছিল। এখন বস্তা দিয়ে পাড় বাঁধাই করা হয়েছে। তবুও রাস্তাটি ধীরে ধীরে ভাগীরথী এগিয়ে আসার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে শাঁখাই থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তার বদলে উদ্ধারণপুর থেকে বাসগুলিকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এবার কয়েক কিমি দূরে ঈশানী নদীর পাড়েও ধস নামছে। ফলে নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর জেরে নদী পাড়ের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা গিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, গতবছরও রাস্তাটিতে ধস নেমেছিল। তারপর আবার রাস্তাটিতে ধস নামল। বারবার একই রাস্তায় ধস নামছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঈশানী নদীর পাড় এলাকায় গঙ্গাটিকুরি বিডিও অফিসের সামনে পাথর দিয়ে বাঁধানো হয়েছে। ওইরকম পুরো সাত কিমি পাথর দিয়ে বাঁধানো হোক। তাহলে রাস্তাটি বাঁচানো যাবে। বাসিন্দারা আরও জানান, শাঁখাই থেকে ওই রাস্তা ধরে বোলপুর, আসানসোল, দুর্গাপুর, বেনাচিতি, কীর্ণাহার সহ বিভিন্ন রুটে প্রায় ১৫ টি বাস যাওয়া আসা করে। বাসগুলি এখন উদ্ধারণপুর থেকে যাওয়া আসা করছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে চরম দুর্ভোগে পড়বেন এলাকার বাসিন্দারা। -নিজস্ব চিত্র