সংবাদদাতা, বহরমপুর: শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি। একদিনে বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে বহরমপুর, বেলডাঙা, হরিহরপাড়া ব্লকের সব্জি চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বহরমপুর ব্লকে বেশ কয়েকটি পুকুরের মাছও ভেসে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন মাছচষিরা। বৃষ্টির জেরে সব্জি চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বিশেষ করে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষিরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পলিহাউস করে যাঁরা চাষ করেছেন, তাঁরাই একমাত্র স্বস্তিতে রয়েছেন। বেগুন, লঙ্কা, মুলো, ঝিঙে, পটল, পালং শাক চাষিরা হা হুতাশ করছেন। চাষিদের দাবি, একদিনের এই বৃষ্টির ক্ষতি এক বছরে পূরণ হবে না।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৩টে নাগাদ মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। সকাল পর্যন্ত তার রেশ চলে। বৃষ্টির তোড়ে বেশ কয়েকটি পুকুর ছাপিয়ে মাছ ভেসে যায়। সকালে বহরমপুর, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ জল থইথই করছিল। সব্জি সহ আমনের জমি জলের তলায় চলে যায়। কেটে রাখা পাট জমিতেই ভাসতে থাকে।
বেলডাঙা ব্লকের সারগাছি এলাকার নইমুদ্দিন শেখ বলেন, দু’বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছিলাম। দুর্গাপুজোর মুখে কপি উঠত। সব জলে ডুবে গিয়েছে। গাছ নজরে পড়ছে না। এই ক্ষতি অপূরণীয়। ওই এলাকায় কয়েকজন চাষি পলিহাউস তৈরি করে কপি লাগিয়েছেন। সেইসব জমির কপির ক্ষতি হবে না বলেই চাষিরা মনে করছেন।
বৃষ্টি শুধু কপির জমিতেই ধাক্কা দেয়নি, পটল, বেগুন, ঝিঙে, মুলো, লঙ্কা, শসা চাষেও ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ জমির ফসল জলের তলায় চলে গিয়েছে। জমি থেকে জল বেরনোর কোনও ব্যবস্থা নেই। বেগুন চাষি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, উৎপাদন বাড়ায় বেগুনের দাম ৮০ টাকা কেজি থেকে কমে ৬০ টাকায় নেমে এসেছিল। ফের বেগুনের দামে আগুন লাগবে। লঙ্কার দাম এমনিতেই হু হু করে বাড়ছিল। বলরামপুর এলাকার লঙ্কা চাষি পীয়ূষ দেবনাথ বলেন, এই বৃষ্টির ধাক্কা সামলাতে পারবে না গাছ। দু’দিন জল দাঁড়িয়ে থাকলে সব গাছ মরে যাবে। লঙ্কার জোগানে টান পড়বে।
এই বৃষ্টির জেরে রবিবার বহরমপুর সব্জি বাজারে কোনও সব্জিরই আমদানি হয়নি। স্বর্ণময়ী সব্জি বাজারের বিক্রেতা দীনেশ মণ্ডল বলেন, ভোরে বৃষ্টি মাথায় দোকানে এসে দেখি বাজারের আশপাশ দিয়ে হাঁটু সমান জল বইছে। কাঁচা সব্জি দূরের কথা এদিন আলুও আমদানি হয়নি। -নিজস্ব চিত্র