সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আবেগ ও বনদপ্তরের ঐতিহ্যের প্রতীক জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং বনবাংলো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হল। বাংলোটি নতুনভাবে তৈরির জন্য মঙ্গলবার জলদাপাড়া বনবিভাগ কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থাকে জমি হস্তান্তর করে। তবে এদিন জমি হস্তান্তর হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিলান্যাসের পরেই বনবাংলোটির নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
শীঘ্রই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, সেই কথা মাথায় রেখেই বিধানসভা ভোটের আচরণবিধি চালু হওয়ার আগেই যেকোনো একদিন মুখ্যমন্ত্রী এই কাজের শিলান্যাস করবেন। তারপরেই পুরোদস্তুর কাজে হাত দেবে ঠিকাদার সংস্থা।
২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত ৯টা নাগাদ বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কাঠের তৈরি হলং বনবাংলো। ১৯৬৭ সালে বাংলোটি তৈরি হয়েছিল। আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী বনবাংলোর পুনর্নির্মাণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি জানান বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা। এমনকী বাংলোটি হুবহু তৈরির দাবিতে পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা মাদারিহাটে রাস্তায় নেমে মিছিলও করেছিলেন। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই ঠিক ছ’মাস আগে রাজ্য সরকার হলং বনবাংলো পুনর্নির্মাণের ছাড়পত্র দেয়। বাংলোটি তৈরির জন্য রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করে।
তবে বনদপ্তর সূত্রে খবর, ফের অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতে এবার কাঠ ও কংক্রিটের মিশেলে তৈরি করা হবে বাংলো। পুড়ে যাওয়ার আগে বাংলোয় কাঠের আটটি ঘর ছিল। এবার কাঠ ও কংক্রিটের মিশেল থাকলেও ঘরগুলির অবয়ব হুবহু একই থাকবে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, হলং বনবাংলো পুনর্নির্মাণের সমস্ত প্রস্তুতির কাজ শেষ করে ফেলা হয়েছে। বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থাকে মঙ্গলবার জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত কাজ শুরু হবে। ফাইল চিত্র