সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অবৈধভাবে চেকপোস্ট করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল বিএলএলআরও দপ্তরের বিরুদ্ধে। কান্দির ব্লকের একটি জায়গায় ও বড়ঞা ব্লকের দু’টি জায়গায় এই ধরণের চেক পোস্ট চলছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে সম্প্রতি বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর গ্রামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার রাজ্য সহ সভাপতি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখায় অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার।
বড়ঞা ব্লকের ময়ূরাক্ষী নদীতে সরকারিভাবে ১১টি বালি খাদান চলছে। ‘মাইনস অ্যান্ড মিনারেল আইন মেনে খাদানগুলি থেকে বালি লোড করে গাড়ি যাতায়াত করে। কিন্তু বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর ও বেলগ্রামের কাছে দু’টি চেকপোস্ট চলছে বিএলএলআরও দপ্তরের তরফে। কান্দি ব্লকের খড়সা মোড় এলাকায় আরও একটি চেকপোস্ট রয়েছে। ওই চেক পোস্টগুলিতে বিএলএলআরও দপ্তরের কর্মীরা দুই থেকে তিন হাজার চালান কেটে বালির গাড়ি চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। এটি পুরোপুরি অবৈধ বলে অভিযোগ। অবিলম্বে চেকপোস্টগুলিকে বন্ধের দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারী সাদরুল আলম বলেন, ‘মাইনস অ্যান্ড মিনারেল রুলসে এই ধরণের চেকপোস্ট পুরোপুরি অবৈধ। কারণ নির্দিষ্ট খাজনা দিয়ে খাদানগুলি থেকে বালি লোড করা হয়। এর ফলে বালির দরও বেড়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।’ যদিও কান্দি এসডিএলএলআরও অচিন্তন ঘোষ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ওঁর অভিযোগ আপনিই তদন্ত করে দেখুন। তারপর আমাদের কাছে আসুন। এছাড়া আমি কিছু বলতে পারব না।’
এদিন চেক পোস্টগুলিতে ঢুঁ মেরে দেখা যায়, প্রতিটি চেকপোষ্টের ঘরগুলি বন্ধ। কিন্তু এলাকাতেই কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করছেন। সাদরুলের দাবি, অভিযোগ তোলার পরই চেকপোষ্টের ঘরগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যয়ভাবে টাকা আদায় চলছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল। প্রাক্তন বহরমপুর সাংসদ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘এ আর নতুন কী! তৃণমূলের রাজত্বে এসব চলছেই। আমরা এর প্রতিবাদ জানালে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ হয় না।’ কান্দির বিধায়ক তথা তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘এসব চেকপোস্ট ভুমিসংস্কার দপ্তরের কর্মীদের রোজগারের জন্যই বসানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার কাছে কান্দির ওই দপ্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’