Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোলে পরিত্যক্ত খাদান বুজিয়ে প্লটিং করে বিক্রির ছক জমি হাঙরদের

শিল্পাঞ্চলের জমি সোনার চেয়েও দামি। মাঠঘাট, খালবিল সবই লুট হয়ে গিয়েছে। এবার জমি হাঙরদের নজর পরিত্যক্ত খাদানে।

আসানসোলে পরিত্যক্ত খাদান বুজিয়ে প্লটিং করে বিক্রির ছক জমি হাঙরদের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলের জমি সোনার চেয়েও দামি। মাঠঘাট, খালবিল সবই লুট হয়ে গিয়েছে। এবার জমি হাঙরদের নজর পরিত্যক্ত খাদানে। আসানসোল উত্তর থানা এলাকাজুড়ে একটা সময়ে গজিয়ে উঠেছিল  একের পর এক অবৈধ খাদান। অনেক গভীর থেকে পাথর লুট করে মুনাফা হচ্ছে না, তাই এবার সেই খাদান ভরাট করে প্লটিংয়ের কারবার শুরু হয়েছে। এই প্লটিংয়ের কারবারে মাথা গলিয়েছে একাধিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী। নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা ঠিকঠাক না হলে প্রতিবাদের ধুয়ো উঠছে, তারপর আবার তলায় তলায় সেটিং হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এইসব অবৈধ খাদান ভরাট হচ্ছে পুরসভার নদী সংস্কার করে তোলা পলিমাটি দিয়ে। কিন্তু পুরসভা কি খাদান ভরাট করে প্লটিং করার অনুমতি দিয়েছে? এরকমই একরাশ প্রশ্ন আসানসোলবাসীর। 

Advertisement

আসানসোলের কাল্লায় ক’দিন ধরে দেখা গেল, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই বোঝাই গাড়ি পিঁপড়ের সারির মতো আসছে। কখনও আবার ট্রাক্টরে করে আসছে নদীর পলিমাটি। কাল্লার বিশাল কেপি খাদান ভরাট করা হচ্ছে সেসব দিয়ে। অভিযোগ, এই খাদান ভরাট করতেই আনা হয়েছিল নদী সংস্কার করে তোলা মাটি। আসানসোলবাসীকে গাড়ু‌ই নদীর বন্যা থেকে বাঁচাতে নদী সংস্কার করছে পুরসভা। সেই পলিমাটি দিয়েই আবার একটি জল ভর্তি গভীর খাদ ভরাট হচ্ছে! খাদানের বর্তমান মালিক হোলা রাম ফোনে বলেন, ডিরেক্টর জেনারেল অব মা‌ইন সেফটির (ডিজিএমএস) নিয়ম হচ্ছে, পরিত্যক্ত খাদান ভরাট করতে হবে। এখন আর পাথর তুলে বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না। তাই খাদান ভরাট করা হচ্ছে ডিজিএমএসের অনুমতি নিয়েই। অণ্ডালের ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ছাই এনে তা ভরাট করছি। পুরসভা আমাদের কাছে আর্জি করেছিল নদী সংস্কারের মাটি ফেলার জায়গা পাচ্ছে না, তাই খাদানে ফেলবে। এরপরই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাকে প্রভাবশালী জমির কারবারিরা প্রস্তাব দিয়েছিল, তারাই খাদান ভরাট করে প্লটিং করবে। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় এনিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তো খাদান ভরাট করে প্লটিং হয়ে গেল। 
আসানসোর পুরসভার সংশ্লিষ্ট বরোর চেয়ারম্যান উৎপল সিনহা বলেন, খাদানগুলি সুইসাইড পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। অনেকে আবার অসাবধানতাবশত পড়ে মারা যাচ্ছে। তাই পুরসভার মাটিতে যদি খাদান ভরাট হয়, তাতে দোষের কিছু নেই। বরং আমরা চাইব, অন্য খাদানগুলিও ভরাট করা হোক। তবে এখানে তাঁরা প্লটিং করার অনুমতি চাননি। 
পুরকর্তা আশ্বস্ত করলেও মানুষের অভিজ্ঞতা মধুর নয়। কাল্লা মোড়ের অদূরেই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই খাদান ভরাট হয়ে পাঁচিল ঘিরে প্লটিং হয়েছে। প্রথমে এ নিয়ে চর্চা হলেও এখন সবার মুখে কুলুপ।
কী বিপদ রয়েছে খাদান ভরাট করে প্লটিংয়ে? জানা যায়, খাদান ছাই দিয়ে ভরাট করা খাদানের উপর নির্মাণ শুরু হলে, যে কোনও সময়ে ধস নামতে পারে। ভরাটের বহু বছর ফেলে রাখতে হয় জমি। তারপর সয়েল টেস্ট করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমতি নিয়ে তবেই নির্মাণ সম্ভব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ