Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুরারইয়ে জেলার দ্বিতীয় পশু হাসপাতালের জমি পরিদর্শন

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই বিধানসভা এলাকায় পশু পালকের সংখ্যা বেশি

মুরারইয়ে জেলার দ্বিতীয় পশু হাসপাতালের জমি পরিদর্শন
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সিউড়ির পর মুর্শিদাবাদ সীমানা লাগোয়া মুরারই ২ ব্লকে জেলার দ্বিতীয় পশু হাসপাতাল গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর। গত মঙ্গলবার এই ব্লকের আমেডোল গ্রাম পঞ্চায়েতের অমৃতপুর মৌজায় পশু হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সরকারি জমি পরিদর্শন করেন দপ্তরের রাজ্যস্তরের আধিকারিকরা। সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর তুহিন চক্রবর্তী, স্থানীয় বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সাংসদ শতাব্দী রায়ের প্রতিনিধি প্রমুখরা। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরারই বিধানসভা এলাকায় পশু পালকের সংখ্যা বেশি। লাগোয়া মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ মহকুমার বৃহৎ অংশের মানুষও পশু পালন করেন। এছাড়াও অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে পোষ্য কুকুর। ব্লকস্তরে হাসপাতাল থাকলেও সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনও সুবিধা মেলে না। এক্স রে, পরীক্ষা নিরীক্ষা ও সার্জারির সুবিধা নেই। গুরুতর অসুস্থ পশুদের নিয়ে যেতে হয় জেলার সদর শহর সিউড়ি বা মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। যার দূরত্ব অনেকটাই। সেখানে নিয়ে যাওয়াও ব্যয়বহুল। বহু ক্ষেত্রে পোষ্যকে অকালে হারাচ্ছেন মানুষ। 
তাই কয়েকবছর আগে মুরারই ২ ব্লক এলাকায় সিউড়ির সমমানের হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিছুদিন আগে বিধানসভাতেও এই দাবি তোলেন মুরারইয়ের বিধায়ক মোশারফ হোসেন। 
এরপরই বুধবার দপ্তরের রাজ্য ও জেলাস্তরের আধিকারিকরা প্রস্তাবিত জায়গা ঘুরে দেখতে আসেন। সাংসাদ শতাব্দী রায়ের প্রতিনিধি সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, সরকারি কর্তারা এই জায়গাটি দেখে চিহ্নিত করে গিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি মেনে এখানে সিউড়ি ও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের মতোই সমমানের পশু হাসপাতাল গড়ে উঠবে। এর ফলে প্রান্তিক পশু পালকদের জীবিকায় টান পড়বে না। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালটিতে অপারেশন থিয়েটার, এক্স রে মেশিন এবং প্যাথোলজিক্যাল বিভাগ থাকবে। বিডিও মিন্টু ঘোষাল বলেন, ওই এলাকায় ৪২ শতক সরকারি জায়গা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের রাজ্য ও জেলার আধিকারিকরা সেই জায়গা দেখে গিয়েছেন। আমরা এই সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক রিপোর্ট তাঁদের দেব। তারপরই পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। তবে তাঁদের যে পরিমাণ জায়গা দরকার, তাতে এই জমিতে পশু হাসপাতাল করতে সমস্যা হবে না। 
তুহিনবাবু বলেন, মুরারই ২ ব্লকে পশু হাসপাতালের প্রস্তাব রয়েছে। জায়গাটি দেখা হয়েছে মাত্র। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই এলাকায় অধিকাংশ পরিবার গোরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি পালন করেন। এছাড়া অনেকের বাড়িতেই কুকুর রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সরকারি উদ্যোগে আধুনিকমানের পশু হাসপাতাল হলে এই এলাকার পাশাপাশি লাগোয়া মুর্শিদাবাদেরও অনেকেই উপকৃত হবেন। আগে পশুদের যে কোনও নমুনা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এবার থেকে এখানেই  তা সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ