Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইসিএলের প্রজেক্ট সম্প্রসারণের খবর পেয়ে সালানপুরের কল্ল্যায় জমি দখল মফিয়াদের

সালানপুরের ব্লকের কল্ল্যা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নিমা‌ই রুজের বয়স ৭৫ বছর। তাঁর নামে ১১৯শতক জমি ছিল।

ইসিএলের প্রজেক্ট সম্প্রসারণের খবর পেয়ে সালানপুরের কল্ল্যায় জমি দখল মফিয়াদের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সালানপুরের ব্লকের কল্ল্যা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নিমা‌ই রুজের বয়স ৭৫ বছর। তাঁর নামে ১১৯শতক জমি ছিল। তিনি বিএলএলআরও অফিসের রেকর্ড সার্চ করে দেখতে পান, তাঁর নামে মাত্র ৪৬শতক জমি পড়ে রয়েছে। বাকি জমি অন্যের নামে রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়েই ওই বৃদ্ধ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তারপরই দফায় দফায় এখন তাঁর জমির পরিমাণ বাড়ছে। তাও সম্পূর্ণ জমি তিনি খাতায় কলমে ফেরত পাননি। এই কল্ল্যা পঞ্চায়েত এলাকার দেড় বিঘা জমি খুইয়েছেন আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের জেঠিমা যুথিকা উপাধ্যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, কারসাজি করে এই পঞ্চায়েত এলাকায় বহু মানুষের জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
কেন কল্ল্যা পঞ্চায়েত এলাকাকে টার্গেট করছে জমি মাফিয়ারা? জানা গিয়েছে, এর পিছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকা লুটের পরিকল্পনা। সালানপুর ব্লকের ইটাপাড়ায় ইসিএলের একটি কয়লা উত্তোলন প্রকল্প রয়েছে। ইটাপাড়া প্রজেক্টটি সম্প্রসারণ হবে। কল্ল্যা পঞ্চায়েতের বহু মৌজার জমি ইসিএল অধিগ্রহণ করবে। পাশাপাশি জমিহারাদের চাকরিও দেয় সংস্থা। তাই রাতারাতি কল্ল্যার জমি মহামূল্যবান হয়ে উঠেছে। জমি বিক্রি করে বিপুল টাকা পাওয়ার আশায় নিজেদের জমির রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন জমির মালিকরা। সেকারণেই একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে আসছে। 

Advertisement


জানা গিয়েছে, খনি অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামের বেশিরভাগ জমিই পরিত্যক্ত। জলের অভাব ও মাটি উর্বর না হওয়ায় চাষাবাদ হয় না। ফাঁকা ঝোপজঙ্গল ঘেরা জমিগুলির কোনো কদর থাকে না। জমির দামও খুবই কম। ইসিএলের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হলে বা চালু থাকা প্রকল্প সম্প্রসারণ হলে সেই জমিই মহামূল্যবান হয়ে যায়। কোন এলাকায় ইসিএলের প্রজেক্ট হবে স্থানীয় জমি মাফিয়ারা তার আগাম খবর পেয়ে যায়। তখনই সেইসব জমির নথিপত্র কারসাজি করা শুরু হয়। জানা গিয়েছে, ইসিএল দু’একর জমি অধিগ্রহণ করলে একজনকে চাকরি দেয়। চাকরি না চাইলে সেই জমি মালিক ইসিএলের কাছ থেকে এককালীন ৮৯লক্ষ থেকে ১কোটি ২১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। পাশাপাশি মাসিক মোটা টাকা আর্থিক সাহায্যও মেলে। সেই লোভেই ইসিএলের অধিগ্রহণের আগেই অনেকে বেশি দাম দিয়ে জমি কিনে নেয়। কোথাও আবার মাফিয়ারা নথি কারসাজি করে জমি হাতিয়ে নিতে সচেষ্ট হয়। সালানপুরের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ উৎপল রায় বলেন, নিমাইবাবু একাধিকবার আমার কাছে এসে অভিযোগ করেছেন। আমরা বিএলএলআরওকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। উনি কিছুটা জমি ফিরে পেয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ