Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এনজিওকে জমি, হয়নি কর্মসংস্থান, বন্ধ কাজুর প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ক্ষুব্ধ গোয়ালতোড়

রাজ্যের এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এনজিও সরকারি জমি লিজ নিয়েছিল

মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এনজিওকে জমি, হয়নি কর্মসংস্থান, বন্ধ কাজুর প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ক্ষুব্ধ গোয়ালতোড়
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোয়ালতোড়:  রাজ্যের এক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এনজিও সরকারি জমি লিজ নিয়েছিল। বিভিন্ন প্রকল্পের রূপায়ণের আশ্বাস দিয়ে ঢালাও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। প্রলোভন দেখিয়ে জমিটি নিলেও সেখানে কিছুই গড়ে তুলতে পারেনি ওই বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। উল্টে ওই এলাকায় গড়ে ওঠা মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কাজু প্রক্রিয়াকরণের পাইলট প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন গোয়ালতোড়ের একাধিক গ্রামের মানুষ। 

Advertisement

গড়বেতা-২ ব্লকের গোয়ালতোড়ের চৌরঙ্গী এলাকার পাথরপাড়া ও জিরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঝে জমিটি লিজে নিয়েছিল সংস্থাটি। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, এলাকায় ছোট ছোট চাষের কাজ হলেও তাতে যোগ দিতে পারেননি তাঁরা। অর্থাৎ, কর্মসংস্থান হয়নি। হতাশ হয়েছে স্থানীয় যুবক-যুবতীরা। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাজু চাষ হয়। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে কোনও কাজু প্রসেসিং ইউনিট নেই। এরপর গোয়ালতোড়ের পাথরপাড়া অঞ্চলে এই ধরনের ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। সেই মতো  লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পরিকাঠামো গড়ে  তোলা হয়। অত্যাধুনিক মেশিনপত্র আনা হয়।  কিন্তু সেই ইউনিট আর চালু হয়নি। জানা গিয়েছে, ওই এনজিওর কব্জায় থাকা জমির ভিতরেই রয়েছে ইউনিটটি। তারা এ ব্যাপারে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি বলে অভিযোগ। 
এদিন কথা হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় মাহাতর সঙ্গে। তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য বহু কাজ হবে বলে এনজিওটি জানিয়েছিল। কিছুই হয়নি। এলাকার যুবকরা কাজ পাননি। অনেক জমি ফাঁকা হয়ে পড়ে রয়েছে। প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। প্রতিটা গ্রামেই বেকার যুবক যুবতীরা রয়েছে। চারিদিকে ঘেরা ওই জমিতে কি হয় জানা নেই। পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্যের কথায়, এনজিওটি লিজ নেওয়ার সময় সীমা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওরা কাপড়ের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট তৈরির কথা বলেছিল। সেটাও এতদিনে করতে পারেনি। প্রায় ৭০ একর জমির মধ্যে খুবই সামান্য অংশে চাষের কাজ হয়। বাকি জমি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে ৭০ একরের বেশি সরকারি জমি পাঁচ বছরের জন্য ওই এনজিওকে দেওয়া হয়। তারা পঞ্চায়েত সমিতিকে বছরে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে থাকে। তাদের জমি নেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল, উন্নত মানের চাষাবাদ ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ করা। জানা গিয়েছে, ওই এনজিওর সঙ্গে রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভালো সম্পর্ক রয়েছে! তিনিই নাকি পঞ্চায়েত সমিতির বিভিন্ন কাগজপত্রে সই করিয়ে সেই জমি ব্যবহারের অনুমতিপত্র প্রদান করেছেন। গোটা প্রক্রিয়াটি জোরপূর্বক করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। জেলা তৃণমূলের বেশকিছু নেতা-কর্মী এই কাজের বিরোধিতা করলেও কথা শোনা হয়নি। পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য বলেন, সরকারি জমিতে কংক্রিটের পাকা নির্মাণ তৈরি নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও একাধিক নির্মাণকাজ করেছে এনজিওটি। বর্তমানে সংস্থাটি সুবিশাল বোর্ড বসিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি বসানো হয়েছে। কিন্তু তারা মানুষকে কাজ দেয়নি।
 তৃণমূলের এক নেতার কথায়, জমি লিজের সময়সীমা বাড়ালে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে সরকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। কারণ এনজিওটির কিছু করার ইচ্ছে থাকলে তারা এত দিন জমি ফেলে রাখত না। গড়বেতা-২ ও গড়বেতা-৩ ব্লকে একাধিক জমি কেলেঙ্কারিতে ওই মন্ত্রী জড়িত বলে আগে অভিযোগ উঠেছে। এদিন গড়বেতা-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, শুনেছি ওখানে তেমন কিছু কাজ হয় না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ