নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির কর্তাদের সিম ক্লোন করে তাঁদের নামে খোলা হতো হোয়াটসঅ্যাপ। সেখানে ডিপিতে থাকত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ছবি। ওই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কোম্পানির ফিনান্স ডিপার্টমেন্টে ফোন করে বলা হত, কোনও একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে। এভাবেই দেশজুড়ে চলছিল প্রতারণা চক্র। কলকাতার এক নামী কোম্পানির কর্ণধারের সিম ক্লোন করে এই কৌশলে ৫০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করল লালবাজার। বুধবার রাতে তাদের জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বহুজাতিক সংস্থার কর্ণধার লেনদেনের হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখেন, একটি অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার হয়েছে। তাঁর অনুমতি ছাড়া কীভাবে এত টাকা পেমেন্ট হলো, এ বিষয়ে খোঁজ করলে ফিনান্স বিভাগের এক কর্মী তাঁকে জানান, আপনার নির্দেশেই ওই টাকা পাঠানো হয়েছে। আপনি হোয়াটসঅ্যাপ কল করে ওই টাকা পাঠাতে বলেছিলেন। একথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন ওই কর্তা। কেউ বা কারা তাঁর ফোনের সিম ক্লোন করে যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আন্দাজ করে লালবাজারের দ্বারস্থ হন তিনি। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, এর পিছনে রয়েছে একটি চক্র। এতে কলকাতা ছাড়াও দিল্লি ও রাজস্থানের যুবকরা রয়েছে। যারা বিভিন্ন কোম্পানির কর্ণধারদের নাম ও নম্বর জোগাড় করছে। তারপর ভুয়ো নথি তৈরি করে তাঁর নামে ক্লোন সিম তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে কৌশলে তাঁদের আসল নথিও বের করে নিয়ে সিম তুলছে প্রতারকরা। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ডিপিতে লাগানো হচ্ছে কোম্পানির কর্ণধারের ছবি। ব্যাস, জালিয়াতির ছক তৈরি। এবার ওই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তারাই কোম্পানির কাউকে কল করে টাকা স্থানান্তর করতে বলছে। কোম্পানির কর্তার অজান্তেই উঠে যাচ্ছে টাকা।



