Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কয়লা পাচার কাণ্ডে বিপাকে লালা! জোর চর্চা শিল্পাঞ্চলে

গত সপ্তাহে ইডির রুজু করা কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাজি ওরফে লালার আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে।

কয়লা পাচার কাণ্ডে বিপাকে লালা! জোর চর্চা শিল্পাঞ্চলে
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গত সপ্তাহে ইডির রুজু করা কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাজি ওরফে লালার আগাম জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে। দিল্লির সিবিআই বিশেষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করেছে। তৎপর্যপূর্ণভাবে ঠিক সেই সময়েই কয়লা পাচার কাণ্ডে আসানসোল সিবিআই বিশেষ আদালতে চলা শুনানিতেও গরহাজির এই মামলার মুখ্য অভিযুক্ত লালা। আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ‘পা মচকে গিয়েছে’। সেই কার঩ণেই সশরীরে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তা শোনার পর বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, ২৪জুন পরবর্তী শুনানির দিন লালা সহ সকল অভিযুক্তকে হাজির থাকতে হবে। এই ঘটনার পর থেকেই লালার জেলযাত্রা আসন্ন কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় সংস্থার কয়লা পাচারের তদন্তের গতি বাড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ইডি, সিবিআই কেন বাংলার ভোটের আগেই সক্রিয় হয়? রাখঢাক না রেখে বিজেপির দাবি, সময়মতোই তো অস্ত্র প্রয়োগ করতে হয়।
২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার বহু আগে থেকেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী বাংলা সফরে এসে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। রবিবার কলকাতায় সরব হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মোদি-শাহ জুটির বাংলায় আগমনের কয়েকদিন আগে থেকেই কয়লা পাচার কাণ্ডে তদন্তে গতি বাড়িয়েছে ইডি। সূত্রের খবর, তার আঁচ পেয়েই দিল্লির আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন লালা। শুনানিতে আগাম জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে ইডি। কয়েক হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচারের তথ্য তুলে ধরে তাঁকে এই চক্রের মাথা হিসেবে দেখানো হয়। এরপরই ঩বিচারক আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন, যা যথেষ্ট তৎপর্যপূর্ণ।
সিবিআই মামলাতেও লালা প্রধান অভিযুক্ত। যদিও সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ দেওয়ায় তাঁকে একবারও গ্রেপ্তার করতে পারেনি সিবিআই। সেই মামলার শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আসানসোল সিবিআই বিশেষ আদালতে। নিয়ম করে আদালতে এতদিন হাজিরা দিতেন লালা। বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে আইনজীবীর সঙ্গেই ঢুকতেন এজলাসে। কিন্তু, শেষ হওয়ার শুনানির দিনই ঘটেছে ব্যতিক্রম। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২মে শুনানি ছিল। সেখানে বাকি অভিযুক্তরা হাজির থাকলেও তিনি গরহাজির ছিলেন। আইনজীবী পা মচকে যাওয়ার খবরটি আদালতকক্ষে জানান। তাহলে কি ইডির গ্রেপ্তারি এড়াতেই গরহাজির থাকছেন লালা? উঠছে প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বঙ্গ সফরের সময় তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর ভি শিবদাসন দাসু বলেন, আমরা কোনও বেনিয়মের তদন্তের বিরোধী নই। কিন্তু, শুধু ভোটের আগেই ইডি, সিবিআই কেন সক্রিয় হয়? আসলে বিজেপির হাতে ভোটের ইস্যু নেই। খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে থাকতে চাইছে। এদিকে, বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল, বিজেপি দু’পক্ষই রাজনীতি করে। সঠিক সময়েই তো উপযুক্ত অস্ত্র ব্য‌বহার করতে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ