Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘লক্ষ্মী’র সাজে ধর্মতলায় ঘাটালের লক্ষ্মী

কলকাতার ধর্মতলায় সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ স্মরণ সভায় রাজ্যের অন্যান্য জেলারকর্মীদের নজর কাড়লেন  ঘাটাল শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত কর্মকার।

‘লক্ষ্মী’র সাজে ধর্মতলায় ঘাটালের লক্ষ্মী
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, ঘাটাল: কলকাতার ধর্মতলায় সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ স্মরণ সভায় রাজ্যের অন্যান্য জেলারকর্মীদের নজর কাড়লেন  ঘাটাল শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লক্ষ্মীকান্ত কর্মকার। বছর চল্লিশের এই ব্যক্তি এদিন সেজে উঠেছিলেন একেবারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আইকনে। তেরঙা শাড়ি, মাথায় পাগড়ি, কোলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আদলে একটি কলসী। তাঁর এই সাজ নজর কেড়েছে কলকাতার বহু পথচলতি মানুষের। তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ।

Advertisement

লক্ষ্মী  শুধু একজন তৃণমূল কর্মী নন, তিনি যেন হয়ে উঠেছেন প্রকল্পের প্রতিচ্ছবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প রাজ্যজুড়ে যেভাবে নারীদের জীবন বদলে দিয়েছে, তা ঘাটাল শহরের প্রতিটি ঘরের কোণে পৌঁছে দিতে তিনি প্রচার করেছেন একাই নিজের খরচে। যখন দলের তরফে কোনও মহিলাকে এই প্রকল্প প্রচারে সর্বক্ষণ পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তিনি ‘লক্ষ্মী’ সেজে কাঁখে কলসী নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন বুথে বুথে। কখনও তৃণমূলের পতাকা কেটে বানিয়েছেন নিজস্ব শাড়ি, কখনও আঁকা-বাঁকা পথ ধরে পৌঁছে গিয়েছেন প্রান্তিক পরিবারে। পেশায় একজন অঙ্কন শিল্পী লক্ষ্মী। ঘাটাল মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের একপাশে মাত্র ২৫ বর্গফুটের একটি টিনের দোকান তাঁর জীবিকার একমাত্র আশ্রয়। সেখানেই তিনি আঁকেন, স্কুল পড়ুয়াদের প্রজেক্ট, প্র্যাক্টিক্যালের খাতা বানিয়ে দেন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে।   রাজনীতি তাঁর কাছে কোনও চাকরি বা পারিশ্রমিকের উৎস নয়। দলের কাছ থেকে কোনও অর্থ গ্রহণ করেন না তিনি। বরং দিনের বেশির ভাগ সময় নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য ব্যয় করেন। লক্ষ্মী বলেন, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসি। তাই তাঁর দলের জন্য কিছু করতে আমার দ্বিধা হয় না। মনে হয় বাড়ির কাজই করছি।
তৃণমূল নয়, যেহেতু লক্ষ্মীর রাজনীতি মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূ শব্দ লিখলেও চুপ থাকেন না তিনি। পরিচিত মহলে কেউ কেউ তাঁকে ঘাটালের ‘দিদির দূত’ বলেও ডাকেন। তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাটাল শহর সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন,  লক্ষ্মীর মতো দলীয় সৈনিক পাওয়া খুবই গর্বের বিষয়। তিনি কোনওদিন কিছু চান না, বরং যা পারেন নিজে থেকেই দেন। তাঁর মতো নিষ্ঠাবান কর্মী দলের সম্পদ। লক্ষ্মী  জানেন, প্রচার মানে মন জয় করা এবং তা করতে হয় অভিনব উপায়ে। তাই কখনও রঙিন শাড়ি, কখনও বিশাল কলসী, কখনও আবার নিজের আঁকা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে, কখনও বা শহরের  দেওয়ালে সুন্দর আল্পনা একেঁ দিয়েও দলের প্রচার করেন। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ