নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে শান্তিপুরের বামাকালীর নাচ এখন ভাইরাল। জাগ্রত দেবীর উগ্র রূপ নৃত্যরত অবস্থায় যে মায়াবী দৃশ্যের জন্ম দেয়, তার সাক্ষী থাকতে চলতি বছর শান্তিপুরে প্রায় লক্ষ মানুষ ভিড় করেন। শুধুমাত্র নদীয়া জেলা নয়, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা সহ বিভিন্ন জেলার বহু মানুষ মঙ্গলবার সকাল থেকে অদ্বৈত নগরীতে ভিড় জমিয়েছিলেন।
শ্রীধাম শান্তিপুরকে বলা হয় শাক্ত ও বৈষ্ণবের মিলনস্থল। এখানে একদিকে যেমন আগমবাগীশের আরাধ্যা আগমেশ্বরী বর্তমান, তেমনই শান্তিপুরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে বৈষ্ণব ভক্তির ছোঁয়া। শুধুমাত্র শাক্ত ও বৈষ্ণবের মিলনস্থল নয়, অধুনা শান্তিপুর কালীক্ষেত্র হিসেবেও পরিচিত। আর সেই ক্ষেত্রে এখন অন্যতম উজ্জ্বল নাম বামাকালী। আগমেশ্বরী, মহিষখাগী, সিদ্ধেশ্বরী, বোম্বাট, বারুদ কালীর পাশাপাশি জাগ্রত বামাকালী এখন আপামর ভক্তের নজরে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে বামাকালীর পুজো শুরু হয়। বিসর্জন যাত্রায় মালোপাড়া মোড়ে রুদ্ররূপী ১৫ ফুট কালীমূর্তিকে কাঁধে নিয়ে নাচানোর ভয়ঙ্কর সুন্দর তথা মায়াবী দৃশ্য মূলত গত বছর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। আর তারপর থেকেই চলতি কালীপুজোয় বামাকালী ছিলেন ভক্তদের আগ্রহের তালিকায় সর্বপ্রথমে। তার ঝলক দেখা যায় মঙ্গলবার বিসর্জনের দিনেই। এদিন সকাল থেকে এমন বহু মানুষকে দেখা গিয়েছে, যাঁরা শুধুমাত্র মায়ের নৃত্যরত রূপ দর্শন করবেন বলে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। কলকাতা থেকে শান্তিপুরে এসেছিলেন তরুণী মৌমিতা ভাণ্ডারী। তিনি বলেন, আমার বাড়ি দক্ষিণেশ্বরে। বামাকালীর এই নাচ আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। বিগত কয়েক মাসে এই জাগ্রত মায়ের সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছি। তাই এবছর আর আগ্রহ ধরে রাখতে পারলাম না। স্বচক্ষে এই অপরূপ দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে এদিন দুপুরেই শান্তিপুরে চলে এসেছি।
তবে কেবল বামাকালী নয়, আগমেশ্বরী, মহিষখাগী, বোম্বাট, বারুদ কালীর বিসর্জন যাত্রা দেখতেও উপচে পড়া ভিড় ছিল। শুধুমাত্র কালীক্ষেত্র শান্তিপুর নয়, দীপাবলির মরশুমে জমজমাট রানাঘাটের উপকণ্ঠের ছোট্ট জনপদ আড়ংঘাটাও। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে জেলার দক্ষিণ প্রান্তের এই জনপদ। সন্ধ্যা নামতেই আড়ংঘাটার রাস্তায় ভিড় উপচে পড়ে। প্রায় এক ডজন থিমের ঠাকুরকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। ইয়ং স্টার ক্লাবের এক লক্ষ ব্লেডের তৈরি মাতৃ প্রতিমা এবার আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে হিউম্যান লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের চোখ ধাঁধানো থিম। পিছিয়ে নেই অনতিদূরের ক্লাব পিয়াসি। তাদের এবারের থিমে ফুটে উঠছে হারানো শৈশব। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে নদীয়া দক্ষিণের দীপাবলি এখন আলোকোজ্জ্বল জমজমাট।