সংবাদদাতা, বসিরহাট: রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসিরহাট মহকুমায় অচল কয়েকশো সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানীয় জলের কল। তৃণমূলের জমানায় শহরাঞ্চলে এই প্লান্টগুলি বসানোর দায়িত্ব ছিল পুরসভার ও গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাবে চলা এই প্লান্টগুলিতে কল খুললেই পাওয়া যেত জল। বসিরহাট উত্তর বিধানসভার টাকি সংলগ্ন এলাকা ও হাসনাবাদ ব্লকে ভূগর্ভের জল নোনতা। এছাড়া স্বরূপনগর সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রীষ্মকালে জল সংকট দেখা দেয়। তাই ওই দুই এলাকায় এই প্লান্টগুলি বেশি পরিমাণে বসানো হয়েছিল।
কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্লান্টগুলি বসানোর কয়েক মাসের মধ্যেই সেগুলির অধিকাংশ অচল হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কোনো গুরুত্ব দেননি। ফলে না ব্যবহার হয়ে প্লান্টগুলো কার্যত আবর্জনা হিসাবে পড়ে রয়েছে।
বাদুড়িয়ার যুবক অহেন্দ্রকুমার খাঁ বলেন, ২০২১ সালে তাঁদের এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত এই প্লান্ট বসানো হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দু’মাস যেতে না যেতেই কলগুলি অচল হয়ে গিয়েছে। তাছাড়াও দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মূল্যবান সামগ্রী যেমন কল, সৌরশক্তির ব্যাটারি, কিছু কিছু জায়গায় ট্যাংক ও মোটর চুরি হয়ে গিয়েছে। হাসনাবাদের এক গৃহবধূ মহুয়া খাতুন বলেন, তাঁদের এলাকাতেও এই জলের প্লান্ট বসানো হয়েছিল। ভালোভাবে তাঁরা জল পেয়েছিলেন মাত্র ৮ মাস। তারপরে সেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন দূরে গিয়ে কলসি করে আনতে হচ্ছে জল।
বাদুড়িয়া সিপিএম নেতা তাসলিম আরিফ ওরফে মিলন বলেন, এলাকার অধিকাংশই সৌরবিদ্যুৎ চালিত জলের প্লান্ট অচল। সরকার পরিবর্তনের আগেই আমরা এনিয়ে সরব হয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় প্রশাসন আমাদের কোনো গুরুত্ব দেয়নি। বসিরহাট জেলার বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, নাগরিক পরিষেবার নাম করে এই সৌরবিদ্যুৎ চালিত জলের প্লান্টগুলি বসিয়েছিল তৃণমূল সরকার। কিন্তু আদপে যা হয়েছে তা হল, উপযুক্ত পরিকল্পনা না করে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কলগুলি বসিয়ে পকেট ভরেছেন তৃণমূল নেতারা। এনিয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে রং না দেখে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। নিজস্ব চিত্র