Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শয্যার অভাব, পুরুষ ওয়ার্ডে ঠাঁই মহিলাদের

পর্যাপ্ত শয্যার অভাবে ধুঁকছে রানিনগরের গোধনপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ড। রোগীর ভিড়ে উপচে পড়ছে মহিলা ওয়ার্ড।

শয্যার অভাব, পুরুষ ওয়ার্ডে ঠাঁই মহিলাদের
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: পর্যাপ্ত শয্যার অভাবে ধুঁকছে রানিনগরের গোধনপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ড। রোগীর ভিড়ে উপচে পড়ছে মহিলা ওয়ার্ড। কাঁটা-ছেঁড়া থেকে শুরু করে গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলা, সবাইকে একই ওয়ার্ডে রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শয্যা না থাকায় বাধ্য হয়ে পুরুষ ওয়ার্ডেই রাখতে হচ্ছে মহিলা রোগীদের।

Advertisement

জেলা সদর বহরমপুর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইসলামপুর–সাগরপাড়া সড়কের ধারে অবস্থিত রানিনগরের এই গোধনপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল। রানিনগর, গোধনপাড়া, শেখপাড়া, নবিপুর, শিয়ালমারি সহ রানিনগর ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ চর এলাকার বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন এই হাসপাতালের উপর। অথচ রোগীর সংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যার সংখ্যা অত্যন্ত কম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, খাতায়-কলমে মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে ১৫টি করে মোট ৩০টি শয্যা রয়েছে। যদিও বাস্তবে রোগীর চাপ সামাল দিতে ওয়ার্ডগুলিতে অতিরিক্ত বেড বসানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে পুরুষ, মহিলা ও আইসোলেশন, এই তিনটি ওয়ার্ড রয়েছে।
সূত্রের দাবি, যেসব হাসপাতালে প্রসব পরিষেবা চালু রয়েছে, সেখানে আলাদা করে অ্যান্টি নাটাল কেয়ার (এএনসি) ও পোস্ট নাটাল কেয়ার (পিএনসি) ওয়ার্ড থাকার কথা। কিন্তু গোধনপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডে এমন কোনও পৃথক ব্যবস্থা নেই। ফলে ইমার্জেন্সি মহিলা রোগী, গর্ভবতী ও প্রসূতিদের একই ওয়ার্ডে রাখতে হচ্ছে। এর জেরে অধিকাংশ সময়েই মহিলা ওয়ার্ডে রোগী উপচে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে মহিলা রোগীদের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি কিংবা পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়।
এভাবে একই ওয়ার্ডে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের পাশাপাশি রাখায় রোগীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। হাসপাতালে আসা এক রোগীর আত্মীয় বলেন, আমার দিদি অসুস্থ। ওঁকে হাসপাতালে নিয়ে এসে দেখছি, পুরুষ ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। এটা খুবই অস্বস্তিকর।
অপর এক রোগীর আত্মীয় বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কখনওই মহিলা রোগীদের সঙ্গে কোনও অবস্থাতেই পুরুষ রোগীদের রাখা যায় না। অথচ এসে দেখছি এটাই করা হয়েছে। এটা উচিত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শয্যার অভাবের কারণেই যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা সত্য। তাঁদের বক্তব্য, পুরুষ রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পুরুষ রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। মহিলাদের সঙ্গে পুরুষ রোগীদের রাখা হচ্ছে না। তবে অভিযোগ উঠেছে, কর্তৃপক্ষ যতই দাবি করুক না কেন, বাস্তবে ওই ওয়ার্ডে মহিলা রোগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে পুরুষ রোগীরাও থাকছেন। ফলে একই ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ রোগীদের রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এই বিষয়ে রানিনগর ২ ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক শামিম আক্তার বলেন, আমাদের হাসপাতালে আলাদা পিএনসি, এএনসি ওয়ার্ড নেই। তাই সমস্ত মহিলা রোগীকেই একই ওয়ার্ডে রাখতে হয়। মহিলা ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা উপচে পড়ছে। এদিকে পুরুষ রোগীর সংখ্যা খুব কমে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহিলা রোগীদের আমরা পুরুষ ওয়ার্ডে ট্রান্সফার করেছি। আর পুরুষ রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ট্রান্সফার করা হয়েছে। পুরুষ রোগীদের সঙ্গে মহিলা রোগীদের রাখা হয় না। তবে আমাদের তো আলাদাভাবে নিরাপত্তাকর্মী নেই। তাই অনেক সময়ে বাড়ির লোকেদের কেউ কেউ হয়তো আমাদের লুকিয়ে মাঝেমধ্যে ওই ওয়ার্ডে তাঁদের পুরুষ রোগীদের রাখছে। আমরা দেখছি সেই বিষয়টি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ