নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নিজেদের আস্তানা, পাঠশালা বিপর্যস্ত। জমেছে পলি ও ডলোমাইট। তা হলেও নিজেদের দায়িত্বে পালনে অটল বলরাম, মীনাক্ষীরা। এরা কুনকি হাতি। এদের দলে আছে আরও ছ’জন। এরা দুর্যোগ বিধ্বস্ত এলাকা থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি নিখোঁজ বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার করেছে। এজন্য এদের পুরস্কৃত করবে বনদপ্তর। তারা ইতিমধ্যে ওই কুনকি হাতিদের পারফরমেন্স পর্যালোচনা করছে। এজন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে বলে খবর।
উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জে ভি বলেন, বিপর্যয় পরবর্তীতে অসাধারণ কাজ করেছে কুনকি হাতির দল। এজন্য মাহুত ও কুনকি হাতিদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাব আমরা।
গত শনিবার প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি নদীর স্রোতের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলের। সেই তালিকায় জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যান দু’টিও রয়েছে। জলদাপাড়া আলিপুরদুয়ার জেলা, গোরুমারা জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে। দু’টি উদ্যানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাতির ‘পিলখানা’। সংশ্লিষ্ট এলাকা কুনকি হাতিদের বাসস্থান। সেখানে তাদের পাঠশালাও রয়েছে। বন্যা প্রাণীদের রক্ষা করতে তাদেরকে সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিপর্যয়ের ছোবলে সংশ্লিষ্ট পিলখানাগুলি বিপর্যস্ত।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, জলদাপাড়া ও গোরুমারায় পিলখানার সংখ্যা আটটি। এরমধ্যে জলদাপাড়ায় ছ’টি ও গোরুমারায় দু’টি। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা হলং নদীর স্রোতে জলদাপাড়ার পিলখানাগুলি বিপর্যস্ত হয়। তাতে জমে ডলোমাইট ও পলি। গোরুমারার পিলখানাগুলির অবস্থাও একই বলে খবর। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নবিকান্ত ঝা বলেন, পিলখানাগুলিতে পলি পড়েছে। কোদাল দিয়ে কেটে তা পরিষ্কার করা হচ্ছে।
এদিকে, বিপর্যয়ে নিজেদের অস্তানা বিপর্যস্ত হলেও দুর্গতদের উদ্ধার কাজে অনীহা নেই ওই কুনকি হাতিদের। বনদপ্তর সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে কুনকি হাতির সংখ্যা ৮০টি। এরমধ্যে জলদাপাড়ায় ৬০টি এবং গোরুমারায় ২০টি হাতি রয়েছে। এদের মধ্যে আটটি হাতিকে উদ্ধার কাজে নামানো হয়েছে। বিপর্যয়ের পরের দিনই জলদাপাড়া জঙ্গলে আটকে পড়া কয়েকজন পর্যটককে উদ্ধার করেছে কুনকি হাতির দল। এরবাইরে বিপর্যয়ের ধাক্কায় বনাঞ্চল থেকে নিখোঁজ বেশকিছু বন্যপ্রাণী। ওই প্রাণীদের খোঁজে জলমগ্ন বনাঞ্চল, মাঠ, নদীর চরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কুনকি হাতিরা। বৃহস্পতিবার তারা মাথাভাঙায় অভিযান চালায়। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কুনকি হাতিরা ১৫টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। সেই তালিকায় সাতটি হরিণ, ছ’টি গন্ডার ও দু’টি বাইসন রয়েছে।
এজন্য ওই কুনকি হাতিদের উৎসাহিত করতে বনদপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, এবার যেভাবে কুনকি হাতির দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। হাতিগুলিকে পরিচালনা করেছেন মাহুতরা। এজন্য ওই মাহুত ও হাতিদের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী বছর বিশ্ব হাতি দিবসে তাদের পুরস্কৃত করা হবে।