সুমন তেওয়ারি, কুলটি: সেইলের অধীনে থাকা ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বৃহৎ লৌহ আকরিক খনি মেঘাতুবুরু। সেইলের স্টিল উৎপাদনে মেঘাতুবুরু খনি লৌহ আকরিক জোগানের অন্যতম বড় ভরসা। সেখানেই আর্থমুভারের জন্য বিশেষ বুশ সেটের(বিশেষ ধরনের ওয়াশার) প্রয়োজন হয়। এতদিন যা আসত জাপানের টোকিওর একটি সংস্থা থেকে। চার পিসের বুশ সেটের দাম পড়ত ভারতীয় মুদ্রায় ৭.৮ কোটি টাকা। সম্প্রতি, সেই সরবরাহ নিয়ে টানাপোড়েন হওয়ায় সেইল নিজের সংস্থা কুলটি সেইল গ্রোথ ওয়ার্কসকে বুশ তৈরির গুরুদায়িত্ব দেয়। তারা মাত্র ২১ লক্ষ টাকা খরচে সেই বিশেষ বুশ তৈরি করে দিয়েছে। তা খনিতে কাজও করছে।
এই ঘটনা ইস্পাত মন্ত্রকে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিপুল বিদেশি মুদ্রা বাঁচিয়ে বাংলার এই সংস্থা প্রশংসা কুড়িয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন কারখানার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর অনিল কুমার ও সিজিএম(ওয়ার্কস) শান্তনু ঘোষ। এই কাজে সাফল্য পেতেই বিভিন্ন খনি থেকে তাঁদের কাছে বুশ তৈরির বরাত আসতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। আধিকারিকরা বলেন, এটি আত্মনির্ভর ভারতের বড় উদাহরণ। সেইলের চেয়ারম্যানও চাইছেন বিদেশের প্রতি নির্ভরতা কমাতে। সেইলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেন আমরা নিজেরাই তৈরি করতে পারি।
স্যার বীরেন শা’র আমল থেকেই ইস্কোর দু’টি ইউনিট রয়েছে। একটি বার্নপুরে, অন্যটি ছিল কুলটিতে। ইংরেজ আমল থেকেই কুলটি শিল্পশহর হিসেবে পরিচিত। গল্ফ গ্রাউন্ড, প্রায় শতাব্দী প্রাচীন সাংস্কৃতিক মঞ্চ সম্মেলনী আজও সেই সাক্ষ্য বহন করে। ইস্কো সেইল অধিগ্রহণ করে। যদিও একটা সময়ে কুলটির কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কুলটি সেইল গ্রোথ ওয়ার্কস নামে ফের কারখানা খোলে। মূলত সেইলের অন্যান্য কারখানার যে যন্ত্রাংশ ও সামগ্রী প্রয়োজন হয়, তা-ই সরবরাহ করে কারখানাটি। ধীরে ধীরে কারখানাটি ফের সাফল্য পাচ্ছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তাঁরা আরও জানান, এহেন উন্নতি দেখে সেইল কারখানার ওয়ার্কশপ বড় করতে টাকা বরাদ্দ করছে। উৎপাদন বাড়াতে একাধিক নতুন যন্ত্র আসছে। গত বছরই ২২ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। কারখানার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর বলেন, আমরা উৎপাদন অনেক বাড়িয়েছি। তাও আমাদের যে পরিমাণ অর্ডার আসে তার মাত্র ২০ শতাংশই করতে পারি। তাই আমাদের আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে। সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। উৎপাদনের উন্নয়নের পাশাপাশি কুলটির রাস্তাঘাট উন্নত করার কথাও জানান তিনি।
উৎপাদন বাড়ানোর কথা বললেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের কোনও আশা দিতে পারেননি সেইলের আধিকারিক। এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর বলেন, প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে কম খরচে উৎপাদন করতে হবে। তাই স্থায়ী নিয়োগের সম্ভাবনা কম। আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমেই নিয়োগ হবে। তাতেও স্থানীয়রা কাজ পাবেন।