দুবাই: ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের রহস্য কী? উত্তর দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাচ্চারাও চোখ বন্ধ করে কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তীদের নাম নেবে। মরুশহরে ভারতের স্পিনের জালেই একের পর এক প্রতিপক্ষ ধরাশায়ী। ফাইনালেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের তুর্কি নাচন নাচালেন স্পিনাররা।
রবিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দাপটেই করে কিউয়ি ব্রিগেড। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই রোহিত শর্মা হাতে বল তুলে দেন বরুণকে। তাতেই হাঁটু কাঁপতে থাকে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের। ওপেনার উইল ইয়ংকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ। আর নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের প্রধান দুই অস্ত্র রাচীন রবীন্দ্র ও কেন উইলিয়ামসনকে ফেরান কুলদীপ। সেই যে নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমেছিল, আর গিয়ার পরিবর্তনের সুযোগ পাননি মিচেল, ফিলিপসরা। শুধু উইকেট নেওয়া নয়। পুরো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একে অপরকে উদ্দীপ্ত করে প্রতিপক্ষকে প্যাঁচে ফেলেছেন কুলদীপ-বরুণ জুটি। ফাইনালে ইনিংসের বিরতিতে মিস্ট্রি স্পিনার বলছিলেন, ‘ওডিআই ফরম্যাটে আমি একেবারেই নতুন। তাই যখনই কোনও সমস্যা হয়, কুলদীপ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলি। ওর পরামর্শ দারুণ কাজে এসেছে।’ আর ফাইনালের উইকেট নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ, ‘শেষ ম্যাচের থেকে উইকেট অনেকটাই আলাদা। ম্যাচের প্রথম ভাগে বল তেমন ঘুরছিল না। আমার পরিকল্পনা ছিল উইকেট টু উইকেট বল রাখা। জানতাম, ওভারস্পিনে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা সমস্যায় পড়বে।’ উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময় গড়ে ২ ডিগ্রি বল ঘুরছিল। কিন্তু ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় অন্যছবি। বল টার্ন করল প্রায় ৩.৪ ডিগ্রি। ফলে রান তাড়া করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন রোহিতরা। ১৮ থেকে ২৭ ওভারের মধ্যেই শুভমান গিল, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে ভয় ধরিয়ে দেন ব্রেসওয়েল, স্যান্টনাররা। শেষ পর্যন্ত বিষাক্ত ঘূর্ণি সামলে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন শ্রেয়স-অক্ষররা-রাহুলরা।
আসলে ভারতের স্পিনারদের মান কিউয়িদের অপেক্ষায় অনেক ভালো। তাঁরা সাহসীও। ২০২১ সালে হাঁটুর চোটে কেরিয়ার ডুবতে বসেছিল কুলদীপ যাদবের। কিন্তু মচকালেও ভাঙেননি চায়নাম্যান স্পিনার। বরং আরও ক্ষুরধার হয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন। ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের পর এবার ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও ভারতের জয়ে বড় অবদান রাখলেন তিনি। এবার ৫ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭ উইকেট।
আর বরুণ চক্রবর্তীর তো বল যতটা না ঘোরে, তার চেয়ে জীবনের মোড় বেশি। শুরুর দিকে ক্রিকেটে নজর কাড়তে ব্যর্থ হন। তাই আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তাতে সাফল্য না মেলায় সিনেমাতেও অভিনয় করেন। সেখানেও কেরিয়ার দীর্ঘায়িত হয়নি। অগত্যা ফের ক্রিকেটে ফেরেন। এবার আর ক্রিকেট দেবতা খালি হাতে ফেরাননি তাঁকে। এই মিস্ট্রি স্পিনারই এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মার তুরুপের তাস হয়ে উঠলেন। মাত্র ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে কাপ জয়ে বড় অবদান রাখলেন বরুণ।