কার্লেস কুয়াদ্রাত: বার্সেলোনা সমর্থকদের কাছে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে চলেছে খুবই আবেগঘন। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে লা মাসিয়ার দুই আবিষ্কার। মেসি বনাম ইয়ামালের দ্বৈরথ ঘিরে উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ছে পুরানো একটি ফটোগ্রাফের কথা। ছোট্ট ইয়ামালকে বাথটাবে স্নান করাচ্ছে লিও মেসি। ২০০৭ সালে স্পেনের পিছিয়ে পড়া পরিবারের বাচ্চাদের নিয়ে একটি ক্যাম্প করেছিল ইউনিসেফ। হাজির ছিল বার্সেলোনার ফুটবলাররাও। ছবিটি সেই সময় তোলা। ফুটবল ঈশ্বরের কী লীলা! রবিবার তারাই কিনা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে। তবে শুধু মেসি বনাম ইয়ামাল নয়, রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের লড়াইটা বর্তমানের ইউরো বনাম কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দলের। সবকিছু ঠিক থাকলে, চলতি বছরের শুরুতে কাতারের মাটিতে ফিনালিসিমা ফাইনালেও মুখোমুখি হত ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা মহাদেশের এই দুই চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে কেউই দোহায় খেলতে রাজি হয়নি। অগত্যা ম্যাচটি বাতিল হয়। তবে ফুটবল দেবতার লিখন খণ্ডায় কে? বিশ্বকাপের ফাইনালে সেই বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচের সাক্ষী থাকতে চলেছি আমারা।
চলতি বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্তিনা। পক্ষান্তরে, স্পেন প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে আটকে গেলেও দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেয়। তারপরও বলব, লা রোহা ব্রিগেডের পথটা কিছুটা হলেও সহজ ছিল। বিশেষত নক-আউট পর্বে সব ম্যাচই শেষ হয়েছে ৯০ মিনিটে। পিছিয়ে পড়ে লড়াইয়ে ফেরার চাপও নিতে হয়নি ইয়ামালদের। আর তার জন্য স্পেনের রক্ষণের প্রশংসা যতই করি না কেন, কম হবে। সেমি-ফাইনালে দুরন্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসার কোনো জায়গাই দেয়নি ফুয়েন্তে-ব্রিগেড। বিশেষত ম্যাচে পেনাল্টি থেকে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে চোখ জুড়ানো ফুটবল উপহার দেয় রড্রি-ওলমোরা। এই পর্বে ফরাসিদের রীতিমতো কোণঠাসা দেখায়। চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের সাত ম্যাচে মাত্র একবারই পরাস্ত হয়েছে গোলরক্ষক উনাই সিমোনে। সবচেয়ে বড়ো কথা, প্রতিপক্ষ দলগুলি তাদের বিরুদ্ধে হাফ চান্সও তৈরি করতে পারেনি।
পক্ষান্তরে, আর্জেন্তিনার ফাইনালের টিকিট অর্জনের পথটা ছিল কাঁটায় ভরা। বিশেষত নক-আউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই তাদের জিততে হয়েছে ঘাম ঝরিয়ে। প্রবল চাপের মুখে সাহসের পরিচয় দিয়ে একের পর যুদ্ধে শেষ হাসি হেসেছে তারা। আর সেই রক্তচাপ বাড়ানো লড়াইয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে মেসি। বাকি ফুটবলাররা জানে, মাঠে তারা সবটুকু উজাড় করে দিলে বাঁ পায়ের জাদুকর কার্যসিদ্ধি করবেই। স্পেনের মতো নিখুঁত ফুটবল না খেললেও ট্রফি জেতার মতো যথেষ্ট হাতিয়ার রয়েছে স্কালোনির কাছে। তবে সার্বিক নিরিখে রবিবারের ফাইনালে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখব স্প্যানিশ আর্মাডাকে। নিজের দেশ বলে আবেগে নয়, বাস্তবের রেখাচিত্রের ভিত্তিতে কথাটা বলছি।