নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: শারদ উৎসবে মেতেছে হো চি মিনের দেশ ভিয়েতনাম। মৃৎশিল্পের শহর কৃষ্ণনগরের দুর্গাপ্রতিমা পাড়ি দিয়েছে ভিয়েতনামে। শারদ উৎসবের মরশুমে কৃষ্ণনগরে তৈরি দেবীপ্রতিমা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাত সমুদ্র তেরো নদী পার করে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দুর্গ ভেঙে, মা দুর্গার অবস্থান সর্বত্রই। ভিয়েতনামে কৃষ্ণনগরে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা যাওয়ার পর সবার মুখে এই আলোচনাই চলছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশের পাশাপাশি কানাডাতেও গিয়েছে কৃষ্ণনগরের দুর্গাপ্রতিমা। পশ্চিমবঙ্গের বাইরের রাজ্যগুলিতেও এবার দুর্গাপ্রতিমার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই সমস্ত জায়গায় মূলত ছোট দুর্গাপ্রতিমা পাঠানো হচ্ছে। আর সেই চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন পালবাড়ির শিল্পীরা। বাইরের রাজ্যে ও অন্য দেশে প্রতিমা পাঠানোর সংখ্যা এবছর প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলেই দাবি করছেন শিল্পীরা। তাতে উৎসবের মরশুমে উমার আগমনে, মুখে হাসি ফুটেছে তাঁর স্রষ্টাদের।
দুর্গাপুজোর আর দু’মাসও বাকি নেই। উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। এবছর দুর্গোৎসবের আয়োজনে যেন কোনও খামতি না থাকে, রাজ্যবাসীকে সেইদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ব্যস্ততা ততই বাড়ছে পালবাড়িতে। প্রতি বছরই কৃষ্ণনগর থেকে দুর্গাপ্রতিমা বিভিন্ন দেশে যায়। তবে এবছর অন্য রাজ্য এবং দেশের বাইরে থেকে অনেক বেশি বায়না এসেছে বলে দাবি করছেন শিল্পীরা। যার ফলে দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরিতেই মগ্ন রয়েছেন তাঁরা। কারণ, বাইরের দেশে যে সমস্ত প্রতিমা যায়, সেগুলিকে এক-দু’মাস আগেই পাঠিয়ে দিতে হয়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে চলে গিয়েছে দু’ফুটের দুর্গাপ্রতিমা। দিনকয়েক আগেই তা ভিয়েতনামে পাঠানো হয়েছে। অনেক সময় শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি বায়না আসে অন্য দেশ থেকে। আবার কখনও কলকাতার ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই মৃৎশিল্পীরা দেশের বাইরে প্রতিমা পাঠান।
জুলাই মাসের শেষের দিকে কৃষ্ণনগরের প্রতিমা গিয়েছে কানাডাতেও। এছাড়াও, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, রামেশ্বরমেও দুর্গা প্রতিমা পাঠানো হচ্ছে। ১০-২০ হাজার টাকায় ছোট দুর্গা পাওয়া যাচ্ছে। শিল্পীদের কথায়, বিগত বছরগুলিতে ভিনরাজ্য এবং বাইরের দেশ মিলিয়ে ৫০টি বায়না থাকত। এবার সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০-১০০টিতে।
কৃষ্ণনগরের শিল্পী মনোজ পাল বলেন, কয়েকদিন আগেই ভিয়েতনামে দুর্গা পাঠিয়েছি। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিমা যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ২২টি দুর্গাপ্রতিমা হায়দরাবাদে যাবে। তার মধ্যে এক ফুটের ১০টি এবং দেড় ফুটের ১২টি দুর্গাপ্রতিমা রয়েছে। এবছর রাজ্যের বাইরে বায়না অনেক বেশি।
কৃষ্ণনগরের পালপাড়ার এক মৃৎশিল্পী বলেন, বিগত বছরগুলিতে এত চাপ ছিল না। এবার অনেকেই প্রতিমার অর্ডার দিচ্ছেন। অর্ডারমতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা দেওয়ার জন্য দিনরাত এক করে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে আশা রাখছি, সময়মতোই সব প্রতিমা সরবরাহ করা যাবে। নিজস্ব চিত্র