Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টি-দুর্যোগে বিপর্যস্ত পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-আরামবাগ ও নদীয়া, ভাসছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর! বাড়িছাড়া অনেকেই

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সারাদিন টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। নদীয়ার কৃষ্ণনগর শহর থেকে গ্রামাঞ্চল হয়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, এমনকী রানাঘাট শহরে জমা জল মানুষের সমস্যা বাড়িয়েছে।

বৃষ্টি-দুর্যোগে বিপর্যস্ত পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-আরামবাগ ও নদীয়া, ভাসছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর! বাড়িছাড়া অনেকেই
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সারাদিন টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। নদীয়ার কৃষ্ণনগর শহর থেকে গ্রামাঞ্চল হয়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, এমনকী রানাঘাট শহরে জমা জল মানুষের সমস্যা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণনগর লিচুতলা পাড়ায় জল জমার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। শান্তিপুর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জমা জলের কারণে বহু মানুষ ঘরছাড়া। 

Advertisement

টানা বৃষ্টির কারণে শান্তিপুর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের লেবুতলা পাড়া থেকে শুরু করে হরিপুর পঞ্চায়েতের নৃসিংহপুর উত্তর কলোনি— সর্বত্রই জলময়। কোথাও হাঁটু পর্যন্ত জল, কোথাও তা ঢুকে পড়েছে ঘরে অথবা উঠোনে। দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছেন, কেউ কেউ অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জল জমলেও পুরসভার তরফে তা নামানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। জমা জল থেকে বিভিন্ন রোগ এবং ডেঙ্গুর মতো মারণ রোগ ছড়ানোর আতঙ্কে ভুগছেন মানুষ। শান্তিপুরের লেবুতলা পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, আগে অন্তত বর্ষাকালে দু’-একবার পাম্প চালিয়ে জল বের করা হতো। কিন্তু গত বছর থেকে সেই কাজও অনিয়মিত। চলতি বছরের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। জল যন্ত্রণার এই পরিস্থিতি নিয়ে পুরকর্তৃপক্ষের দাবি, ওই এলাকা ভৌগোলিকভাবে নিচু। সেই তুলনায় আশেপাশের উঁচু এলাকা থেকে জল সেখানে নেমে আসে। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, ওই এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুরসভা। ভৌগোলিক অবস্থানের কথা মাথায় রেখে নিকাশি নালা যাতে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারব। 
অন্যদিকে, শান্তিপুর গ্রামীণ এলাকার হরিপুর পঞ্চায়েতের নৃসিংহপুর উত্তর কলোনিতেও দেখা গিয়েছে একই সমস্যা। টানা বৃষ্টিতে সংলগ্ন পুকুর অথবা জলাশয় থেকে জল উপচে ঢুকে পড়েছে রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বীরেন মাহাত বলেন, জল যন্ত্রণা থেকে মানুষকে নিষ্কৃতি দিতে আমরা তৎপর। এদিকে, জমা জলে ভোগান্তির ছবি ধরা পড়েছে কৃষ্ণনগর শহর থেকে গ্রামীণ এলাকাতেও। এরমধ্যে জমা জলের কারণে দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা বাতিল করে দিতে হয়। কৃষ্ণনগর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড, রায়পাড়া মালিপাড়া, এমনকী পোস্ট অফিস মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও হাঁটু সমান জল জমেছে। এছাড়াও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড সহ অন্যান্য জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিতে জল জমেছে। শহরের মৃণালিনী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারমাইকেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা থাকলেও তা বাতিল করে দিতে হয়। তবে জমা জলের কারণে রীতিমতো জাতীয় সড়ক অবরোধ হয় কৃষ্ণনগরের হাইরোড লিচুতলা পাড়া এলাকায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক চলে সেই অবরোধ। স্থানীয় বাসিন্দা বিপ্লব সরকার বলেন, ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক যবে থেকে হয়েছে তবে থেকেই আমাদের ভোগান্তি। হাই রোডের সমস্ত জল ঢুকে পড়ে আমাদের এলাকায়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে মানুষ রান্না করে খাওয়ার জায়গাটুকু পাচ্ছেন না। ঘর ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে অনেককে। এই সমস্ত সমস্যার জন্য জাতীয় সড়কের বাজে নিকাশি ব্যবস্থাই দায়ী। এর আগে জল যন্ত্রণা এতটা ছিল না এলাকায়।  লিচুতলা জলমগ্ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ