নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ক’দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে কৃষ্ণনগরের রাস্তার হাড়পাঁজরা বেরিয়ে পড়েছে। রাস্তার খানাখন্দে জল জমে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। ওয়ার্ডের ভিতর রাস্তাগুলিও কর্দমাক্ত। গাড়ি চলাচলের অযোগ্য। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে শহরজুড়ে। রাস্তার এই ভয়ঙ্কর দশায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী।
কৃষ্ণনগর শহরের হাই স্ট্রিটের কাছে এভি স্কুল মোড়ে কয়েকদিন আগেই মূল রাস্তাতেই পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়। লাগাতার বৃষ্টিতে তা কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছিল। ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালকরা তার উপর দিয়ে যাতায়াত করছিল। সম্প্রতি পুরসভা পাথর ও ইঁট দিয়ে সেই গর্ত বুজিয়েছে। যদিও শহরবাসীর দাবি, এতে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ পুনরায় বৃষ্টি হলে ইট পাথর ধুয়ে চলে যাবে। তখন ফের গর্ত বেরিয়ে আসবে।
একই অবস্থা কৃষ্ণনগরের গভর্নমেন্ট কলেজ সংলগ্ন রাস্তার। সেখানেও বৃষ্টি হলেই গোড়ালি সমান জল জমে যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই কলেজে বহু ছাত্রছাত্রী আসেন। কলেজের গেটের সামনে পৌঁছে দেন টোটো চালকরা। কিন্তু কালেক্টরেট যাওয়ার মূল রাস্তা থেকে কলেজের গেটে পৌছনোর রাস্তা ভাঙাচোরা। একই ছবি দেখা গিয়েছে ১৬ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানের বিভিন্ন জায়গায় হাই ড্রেন তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার উপরেই অনেক মাটি পড়ে আছে। যার ফলে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় কর্দমাক্ত হয়ে গিয়েছে। মূলত ওয়ার্ডের ভিতরের এই রাস্তাগুলো দিয়ে টোটো আর বাইক চলাচল করে। কিন্তু রাস্তা খারাপ হওয়ার গাড়ি চলাচল করতে পারছে না।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের কাউন্সিলারদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কৃষ্ণনগর শহরের উন্নয়নে বাধা হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের কাউন্সিলারদের একাংশের আপত্তিতে কাজ হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শহরজুড়েই উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, আমরা চাই শহরের উন্নয়নমূলক কাজ আগের মতো গতি পাক। কিন্তু কিছু কাউন্সিলারদের বাধার কারণে আমরা কাজ করতে পারছি না। তবু শহরবাসীর কোথাও সমস্যা হলে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত তার সমাধান করার। কৃষ্ণনগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড ঘূর্ণী হালদারপাড়া জলমগ্ন রাস্তা। -নিজস্ব চিত্র