নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দুষ্কৃতী তাণ্ডবে অতিষ্ঠ কৃষ্ণনগরবাসী। বন্দুক উঁচিয়ে এলাকা দখলের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সংগঠনের কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। চলছে তোলা আদায়। পুলিস সব জেনেও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় না। এমনটাই অভিযোগ করছেন শহরবাসী। ইদানীং দুষ্কৃতীদের এই উপদ্রব বাড়ায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী। চকেরপাড়ার ঘটনাতেও তা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় শহরের ‘কুখ্যাত’ দুষ্কৃতী জিৎ মণ্ডল এখনও অধরা। পুলিসের চোখে সে পলাতক। তার খোঁজ করছে পুলিস।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, চকেরপাড়ার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের ধরা হবে। পুলিস তাদের খোঁজে লাগাতার তল্লাশি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর শহরে পরপর দু’রাতে প্রকাশ্যে গুলি চলে। বোমাবাজি হয়। আর তা হয়েছে কুখ্যাত দুষ্কৃতী জিতের নেতৃত্বেই। তার অপরাধের তালিকা দীর্ঘ। একাধিকবার সে জেলও খেটেছে। কিন্তু, তাতেও তার মধ্যে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরাবরই দেখা গিয়েছে সে শাসকদলের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আশ্রয়ে ছিল। এমনিতেই শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে কৃষ্ণনগর শহরে পুরপরিষেবা লাটে উঠেছে। মৃৎশিল্প ও সাহিত্য-সংস্কৃতির শহরে এভাবে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে আতঙ্কে রয়েছেন শহরবাসী। কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, আমাদের দল কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। যে বা যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিস কঠোর ব্যবস্থা নিক।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে ৭ নম্বর ওয়ার্ড চকেরপাড়ার মুন্না শেখ ও তাঁর বন্ধু বাইকে যাচ্ছিলেন। ওই এলাকার শুকুল মাঠের কাছে মুন্নাকে দাঁড় করিয়ে জিৎ টাকা চায়। না দেওয়ায় মারধর করে। তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে পিস্তল উঁচিয়ে তেড়ে যায়। মুন্নাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলিও চালানো হয়। এরপর মুন্নার বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতেও জিতের রাগ মেটেনি। চকেরপাড়া বারোয়ারির কাছে দলবল নিয়ে এসে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি চালায়। তারপর থেকেই সে পলাতক। এর জেরে গত মঙ্গলবার রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকা। ওইদিন চকেরপাড়ার লোকজন জিতের বাড়ির কাছে গিয়ে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। সেইসঙ্গে বোমাবাজিও করে।
গোটা ঘটনায় শহরবাসী পুলিসের ভূমিকায় সরব হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে জিতের মতো সমাজবিরোধীরা জেলের বাইরে রয়েছে? পুলিস সব জেনেশুনে চুপ ছিল কেন? অনেকেই বলছেন, শাসকদলের নেতাদের হাত মাথায় থাকার জন্যই দুষ্কৃতীদের এত দাপাদাপি। সেজন্য তারা পুলিসকেও পরোয়া করে না। অতীতেও কৃষ্ণনগর শহরে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছিল।
কৃষ্ণনগর পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলার শান্তশ্রী সাহা বলেন, তৃণমূলের দু’পক্ষের মধ্যে লড়াই। শহরে পুলিস ও প্রশাসন বলে কিছুই নেই। সাধারণ মানুষ খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, তৃণমূল নেতাদের প্রশ্রয়েই শহরে সমাজবিরোধীদের দাপট বাড়ছে। শাসকদল এই দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত শহরে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়, শহরবাসী আতঙ্কিত।