নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পুর নগরোন্নয়ন দপ্তরের হুঁশিয়ারির জেরে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে সোমবার সিআইসি সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করলেন কৃষ্ণনগর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নরেশচন্দ্র দাস। সেই বৈঠকে শহরের জঞ্জাল পরিষ্কার করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এদিন পুরসভার সভাকক্ষে বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন আটজন সিআইসি সদস্যই। পাশাপাশি বৈঠকে ২০২২ সালের পর থেকে নিয়োগ হওয়া ডেইলি ওয়েজ কর্মীদের বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কারণ, ২০২২ সালের আগেও দীর্ঘদিন ধরে ডেইলি ওয়েজ কর্মী নিয়োগ করে এসেছে কৃষ্ণনগর পুরসভা। বাইশের পর সেই ধারাই অব্যাহত রেখেছিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস। কিন্তু তাঁর আমলে কাজ পাওয়া কর্মীদের বসিয়ে দেওয়াকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন কৃষ্ণনগর পুরসভার কাউন্সিলার ও সিআইসি সদস্যদের একাংশ।
বৈঠক শেষে কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলার অসীম সাহা বলেন, সোমবার আমাদের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। মিটিংয়ে শহরের জঞ্জাল সাফাই, লাইট ও স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শহরকে সচল রাখতে আমরা সমস্ত রকমভাবে চেষ্টা করব। শহর পরিচ্ছন্ন রাখাকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। যে সমস্ত কর্মীকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের বসিয়ে রাখা হবে।
যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি, নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে পুর নগরোন্নয়ন দপ্তরকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। কার্যত শহরের সকল কাউন্সিলারকে কৃষ্ণনগর পুরসভার অচলাবস্থার জন্য দায়ী করে পুর নগরোন্নয়ন দপ্তর। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। দীর্ঘ সাতমাসের বেশি সময় ধরে কৃষ্ণনগর পুরসভার কাউন্সিলারদের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে নাগরিক পরিষেবা লাটে উঠেছিল। সোমবারের মিটিংয়ের পর অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘ সাতমাস কেন শহরবাসীকে পুরসভার অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ভুক্তভোগী হতে হল? কাউন্সিলাররা আগেই সম্মিলিতভাবে সমস্যার সমাধান করতে তৎপর হলেন না কেন?
কৃষ্ণনগর পুরসভার এক সিআইসি সদস্য গৌতম মালাকার বলেন, শহরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ২০২২ সালের পর কাজে যোগ দেওয়া কর্মীদের এইভাবে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। অতীতে যাঁরা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁরাও এইভাবে কর্মী নিয়োগ করেছেন। সেই অনুযায়ী ২০০৩ সাল থেকে যে সমস্ত বেআইনি কর্মীকে কাজে লাগানো হয়েছে, তাঁদের সকলকে বসিয়ে দেওয়া হোক। সেটা নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হোক।
কৃষ্ণনগর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিআইসিদের বৈঠক। -নিজস্ব চিত্র