নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর পুরসভার ভাঁড়ারে টান! প্রতি মাসে অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মচারীদের মাইনে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষকে। যার ফলে ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল কৃষ্ণনগর পুরসভা। বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে আরও প্রায় আড়াইশো কর্মচারীকে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন কৃষ্ণনগর পুরসভায়। বছরের শেষদিন বুধবার পুরসভায় কাজ করে বাড়ি ফেরার পর তাঁরা জানতে পারেন যে, তাঁদের বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। নতুন বছরের শুরুতেই কাজ হারিয়ে আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের মাথায়। বৃহস্পতিবার কাজ হারানো অস্থায়ী কর্মীরা কৃষ্ণনগর পুরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। এমনকী শুক্রবার কৃষ্ণনগর পুরসভায় লাগাতার বিক্ষোভ করে অচল করে দেওয়ার কথাও বলেন। এই ঘটনায় শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে। কারণ কয়েক মাস আগেও শতাধিক অস্থায়ী কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও ছাঁটাইয়ের পরেও এক হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছে পুরসভায়।
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, আমরা কোনও অস্থায়ী কর্মীকে বাদ দেওয়ার পক্ষে না। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে তা করতে বাধ্য হচ্ছি।’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর পুরসভায় পার্মানেন্ট স্টাফ রয়েছেন ২৯১ জন। এছাড়াও ছাঁটাইয়ের আগে পর্যন্ত অস্থায়ী কর্মী ছিলেন ১৩২৬ জন। অস্থায়ী কর্মীরা মূলত জলকল, সাফাই, কর বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করতেন। অর্থাৎ ওয়ার্ড পিছু এরকম পুরো কর্মীর গড় সংখ্যা ছিল ৬০ জন। তারপরও নানা পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ তুলতেন শহরবাসী। কারণ অস্থায়ী কর্মীদের একটা অংশ ছিলেন নিষ্ক্রিয়। তাঁরা মূলত স্থানীয় কোনও তৃণমূল নেতার ছত্রছায়ায় থাকতেন। অস্থায়ী কর্মীদের তালিকায় শহর তৃণমূলের এক যুব নেতার মতো বহু প্রভাবশালীর নামও রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্থায়ী এবং অস্থায়ী কর্মী মিলিয়ে বেতন বাবদ ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা দিতে হয় পুরসভাকে। যার মধ্যে শুধুমাত্র অস্থায়ী কর্মীদেরই বেতন দিতে ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। পাশাপাশি স্থায়ী কর্মীদের বেতনের একটা অংশ যায় পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকেই। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে পুরসভার তহবিল তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস আগেই ১০৬ জন অস্থায়ী কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার ৩১ ডিসেম্বর রাতেই ছাঁটাই করা হল প্রায় আড়ইশো অস্থায়ী কর্মীদের। বিষয়টি জানাজানি হতেই শহরজুড়ে হইচই পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা।
অস্থায়ী কর্মচারী সুজিতকুমার জোয়ারদার বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বহু কর্মচারী কৃষ্ণনগর পুরসভায় কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু কৃষ্ণনগর নয়, রাজ্যের সব পুরসভাতেই এ ধরনের কর্মচারী রয়েছেন। এভাবে কাজ হারালে তাঁরা পেট চালাবেন কীভাবে। এই সিদ্ধান্তের ধাক্কায় জলকল দপ্তরের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে, আরেকজন হাসপাতালে ভর্তি। এর প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নামছি এবং শুক্রবার থেকে পুরসভার সামনে লাগাতার আন্দোলন চলবে। অস্থায়ী কর্মচারী কনিকা দাস বলেন, আমি মিউটেশন দপ্তর কাজ করতাম। তার সমস্ত প্রমাণ আমার আছে। বছরের শেষদিন পর্যন্ত আমাদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। অনেক কর্মচারীর ইপিএফও হয়ে গিয়েছে। কাজ হারিয়ে বিক্ষোভে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। নিজস্ব চিত্র