Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুঃস্থ পরিবার ‘দত্তক’ নেবে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ

নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের পিছিয়ে পড়া দুঃস্থ পরিবারকে ‘দত্তক’ নিচ্ছে পুলিশ। এক্ষেত্রে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।‌

দুঃস্থ পরিবার ‘দত্তক’ নেবে কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশ
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের পিছিয়ে পড়া দুঃস্থ পরিবারকে ‘দত্তক’ নিচ্ছে পুলিশ। এক্ষেত্রে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।‌ পুলিশ সেইমতো চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে সারাবছর পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেক্ষেত্রে দুঃস্থ পরিবারের গর্ভবতী মা ও তাঁর সদ্যোজাত শিশু এবং বয়স্কদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, পুলিশ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।‌ তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা পরিবারকে সুস্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে। এবার তাঁদের মধ্যে ওই গ্রামের একজন দুঃস্থ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হবে। যাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন। সেইমতো পুলিশ-প্রশাসনের তরফে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিকে চিহ্নিত করে শিবির করা হচ্ছে। এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা।

Advertisement

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়। প্রত্যন্ত গ্রামের কোনও মানুষ যাতে পুষ্টিজনিত সমস্যার শিকার না হয়, তা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেইমতো বিভিন্ন থানা এলাকায় শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। 
প্রত্যেক থানা এলাকায় এমন কিছু গ্রাম থাকে যেখানে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা বেশি।‌ পুলিশের তরফে সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এককালীন সাহায্যের পরিবর্তে সারাবছর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পলাশীপাড়া, করিমপুর এবং থানারপাড়া থানা এলাকায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে পুলিশ প্রায় ১৫০জন‌ গ্রামবাসীর দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে প্রতিটি থানা এলাকায় পিছিয়ে পড়া গ্রামকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তারপর পুলিশ-প্রশাসনের তরফে সেখানে সুস্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। শিবিরে একজন চিকিৎসক থাকছেন। গ্রামের দুঃস্থ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শিবিরে ডাকা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের মধ্যে কার অপুষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে, তা প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসক জানাচ্ছেন।‌ তাঁদের পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন। এবার তাঁদের একটি করে সুস্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ওই গ্রামবাসীকে কবে কী খাবার দেওয়া হল, তা কার্ডে লেখা থাকবে। পুলিশের তরফে সেই খাবার ওই গ্রামবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক কোনও গ্রামবাসীকে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিলে, পুলিশের তরফে সেটিরও ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু থানা এলাকায় সেই কাজ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, চাহিদার ভিত্তিতে গ্রামবাসীদের মধ্যে একজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে পুলিশ। পুষ্টিজনিত খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে প্রয়োজনীয় বস্ত্র প্রদান করা হবে। এমনকী, তাঁর সন্তানের যদি পড়াশোনার জন্য সাহায্যের দরকার পড়ে তার ব্যবস্থাও করবে পুলিশ।‌ 
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম ঘোষ বলেন, যদি দেখা যায়, কোনও ব্যক্তির সন্তানের পড়াশোনার জন্য কম্পিউটারের প্রয়োজন রয়েছে। কিংবা সন্তানের পড়াশোনা সংক্রান্ত কোনও সাহায্যের দরকার হলে আমরা তার প্রয়োজনীয়তা মেটানোর চেষ্টা করব। গ্রাম থেকে একজনকে বাছাই করা হবে। আমরা তাঁর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেব। আগামী দিনে আরও শিবির করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ