সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : দূরের গ্রাম থেকে ভেসে আসছে ঢাকের আওয়াজ। নদী পাড়ের কাশফুল গুলো দুলছে। উৎসবের আবহে ঢাকের বোলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষ্ণনগরের চালি শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পুজোর মূল আকর্ষণ প্রতিমা হলেও, প্রতিমা ও পরিবেশের সৌন্দর্য গড়ে তোলে শিল্পীদের হাতে গড়া চালিতে। কৃষ্ণনগরে এখন সেই চালি তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। দিন - রাত এক করে শিল্পীরা বাঁশ, খবরের কাগজ, রঙিন কাগজ দিয়ে প্রতিমা সৌন্দর্য বাড়াতে কাজ করে চলেছেন।
কৃষ্ণনগরের বাগদি পাড়ার চালি শিল্পীরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। প্রতিমার চালি বলতে সাধারণত বাঁশ ,আঠা, দড়ি, কাঠ, খবরের কাগজ ও রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো এক বিশেষ কাঠামো। যার মধ্যে প্রতিমাকে স্থাপন করা হয়। এখন বাগদি পাড়ার ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে চালি শিল্পী ও শোলার শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা। প্রতিটি শিল্পী চেষ্টা করছেন তাদের কাজে নতুনত্ব ও বৈচিত্র আনতে।
বেশিরভাগ চালি শিল্পী বলেন, আমাদের এলাকায় চালি তৈরির ঐতিহ্য কিন্তু বহু পুরনো। প্রতিবছর দুর্গা, কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজো এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। বড় বারোয়ারির পুজোর পাশাপাশি বাড়ির পুজোতেও চালের বিশেষ চাহিদা থাকে। ছোট - বড় নানা আকারের চালির অর্ডার আসতে শুরু করেছে। অনেক বারোয়ারি আবার থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালির অর্ডার দেয়। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় আমাদেরও চালির দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।
বাগদি পাড়ার এক চালি শিল্পী কার্তিক সাঁতরা বলেন, আমরা এখন দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি। কিছুদিনের মধ্যেই দুর্গাপুজোর অর্ডারের চালিগুলো চলে যাবে। একটা পুরো চালি শেষ করতে মোটামুটি দু’দিন মত সময় লাগে। প্রতিবছর তিনশোর বেশি অর্ডার আসে।
কৃষ্ণনগরে চালির বেশিরভাগ কাজ বাগদি পাড়াতেই হয়ে থাকে। চালির সূক্ষ্ম কাজের উপর দাম ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০-৪০ হাজার পর্যন্তও হয়ে থাকে। পুরোটাই নির্ভর করছে উপকরণ এবং নকশার উপরে।
আরো এক চালি শিল্পী জানান, এই কাজ খুব যত্নের সাথে ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও জেলা নানা প্রান্তে কৃষ্ণনগরের চালি পৌঁছে যাবে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর সাজসজ্জা, এসেছে নানা নতুন ভাবনা। তবু কৃষ্ণনগরের চালি শিল্পীদের হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী চালির কদর এখনও অটুট।