Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্ঘটনায় জখম বাবা, আরোগ্য কামনায় হবিবপুর থেকে মায়াপুরে কৃষ্ণভক্ত অষ্টম শ্রেণির শুভাশিস

গলায় তুলসির মালা। মুখে হরিনাম। এমন অনেককেই দেখা যায় মায়াপুরে

দুর্ঘটনায় জখম বাবা, আরোগ্য কামনায় হবিবপুর থেকে মায়াপুরে কৃষ্ণভক্ত অষ্টম শ্রেণির শুভাশিস
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: গলায় তুলসির মালা। মুখে হরিনাম। এমন অনেককেই দেখা যায় মায়াপুরে। কিন্তু, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মন্দির চত্বরে যে বালক ব্যাকুল হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ডেকে ডেকে ঘুরছিল, সে আর অন্য পাঁচজনের মতো ভক্ত নয়। স্বাভাবিকভাবেই তাকে দেখতে পেয়ে বেশ অবাকই হয়ে গিয়েছিলেন ইসকনের নিরাপত্তারক্ষীরা। এত রাতে তো মন্দিরের আবাসিক ছাড়া সচরাচর কাউকে দেখা যায় না! তা হলে বালকটি কে? 

Advertisement

নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ে অফিসে গিয়ে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। ছেলেটির নাম শুভাশিস মণ্ডল। বাড়ি মালদহের হবিবপুরে। বাবা অটোচালক। সম্প্রতি, অটো দুর্ঘটনায় ডানহাতটি হারাতে বসেছেন তিনি। চিকিৎসা চলছে রায়গঞ্জ হাসপাতালে। অটো চালিয়েই সংসার চালাতেন তিনি। দুই ছেলের মধ্যে শুভাশিস বড়। বাড়ির সকলেই হরিভক্ত। শুভাশিসের বিশ্বাস, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করলেই বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন। আবার তিনি অটো চালাতে পারবেন। সেই বিশ্বাস থেকে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সোজা মায়াপুরে চলে আসে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া শুভাশিস। মন্দির চত্বরে ঘুরে ঘুরে বাবার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রার্থনা করতে থাকে সে। তখনই নজরে পড়ে যায়  মায়াপুরে কর্মরত নবদ্বীপ তেঘরিপাড়ার যুবক শুভজিৎ মোদকের। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অফিসে। সেখানে তার কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পুলিস ও ইসকনের নিরাপত্তারক্ষীদের সহযোগিতায় রবিবার সকালে পরিবারে হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই ছাত্রকে।
জানা গিয়েছে, গত ১ মে অটো দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন শুভাশিসের বাবা। তাঁর ডান হাতটা প্রায় অকেজো হয়ে যাওয়ার জোগাড়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর ডানহাতটি হাত স্বাভাবিক হবে না। সেই কারণে শুভাশিস শনিবার সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। একটা চিরকূটে  মায়াপুর যাচ্ছি বলে লিখে বের হয়। তাকে না পেয়ে বাড়ির লোকজন  মালদহের হবিবপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মালদহ থানা ও যোগাযোগ করে মায়াপুর ফাঁড়ির সঙ্গে। এরপর পরিবারের লোকজন হবিবপুর থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে এদিন শুভাশিসকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। শুভাশিসের জেঠু হীরালাল মণ্ডল জানান, গতকাল বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে এসেছিল। এরপর খোঁজখবর না পেয়ে আমরা হবিবপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি। শুভজিৎ মোদক বলেন, ছেলেটিকে একা দেখে কৌতুহল হয়। ওর সঙ্গে কথা বলে সমস্ত বিষয়টা জানতে পারি। ওর কাছে ফোন নম্বর নিয়ে বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিই। ও বাড়ি ফিরছে শুনে আমি খুব খুশি।  শুভাশিস মণ্ডল। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ