সংবাদদাতা, মানকর: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ৫৩১৩৯ কলকাতা-চিত্তরঞ্জন-যশিডি প্যাসেঞ্জার। সেটি চালু করা এবং মানকর স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজের দাবি তুললেন যাত্রীরা। সম্প্রতি আসানসোলে পূর্ব রেলের ডিভিশনাল কমিটির বৈঠকে দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের তরফে ট্রেনটিকে চালু করার দাবি জানানো হয়। যাত্রীরা আশা প্রকাশ করছেন, সাংসদের এই উদ্যোগের ফলে এবার হয়তো চালু হবে এই প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ৫৩১৩৯ ও ৫৩১৪০ কলকাতা-চিত্তরঞ্জন-যশিডি আপ ও ডাউন ট্রেনের উপর বর্ধমান, পানাগড়, দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দারা নির্ভর করতেন। পরে করোনার সময় ট্রেনটি বন্ধ করা হয়। তারপর থেকে আর চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পানাগড়ের বাসিন্দা বাপি সেন বলেন, ওই ট্রেনে রাতে কলকাতা থেকে কাজ করে ফিরতে সুবিধা হত। কারণ কলকাতার চিতপুর স্টেশন থেকে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ত। ব্যারাকপুর, ব্যান্ডেল হয়ে পানাগড়ে এসে পৌঁছাত রাত ২টোর সময়। ওই ট্রেন চালু হলে সকলের সুবিধা হবে। যাত্রীরা জানান, দুর্গাপুর থেকে যশিডি যাওয়ার জন্য প্রতিদিন বাঘ এক্সপ্রেস রয়েছে রাত ১২টা ২৬ মিনিটে ও রাত ২টো ৩৫ মিনিটে মোকামা এক্সপ্রেস। কলকাতা-চিত্তরঞ্জন ট্রেনটি দুর্গাপুরে আসত রাত ২টো ১৫ মিনিটে। বাকি দু’টি ট্রেন দূরপাল্লার হওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকে। ফলে স্থানীয় যাত্রীরা যশিডি যেতে কলকাতা-চিত্তরঞ্জন ট্রেনটি পছন্দ করতেন। তাছাড়া কলকাতা ফেরার সময় ওই ট্রেনে পানাগড়ে আসত সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে। অনেক যাত্রীই বর্ধমান, ব্যান্ডেল, নৈহাটি যেতে ওই ট্রেনের উপর নির্ভর করতেন। কারণ পানাগড় থেকে সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে ময়ূরাক্ষী এক্সপ্রেসের পর সরাসরি ব্যান্ডেল যাওয়ার ট্রেন দুপুর ৩টা ৪ মিনিটে হুল এক্সপ্রেস। অবিলম্বে ওই ট্রেন চালু হওয়া দরকার। মানকরের বাসিন্দা মানস অধিকারী বলেন, সরাসরি ব্যারাকপুর, নৈহাটি যাওয়ার কোনো ট্রেন এখানে থামে না। ট্রেনটি চালু হলে এবং মানকরে স্টপেজ দিলে স্থানীয় সহ বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহলের মানুষ উপকৃত হবে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধা হবে। সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডের কাছে ট্রেনটি চালুর দাবি জানানো হয়েছে।